কাজ করতে হবে, ফাঁকিবাজি করলে কড়া পদক্ষেপ। এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। দপ্তরে কাজ না করে রাজনীতি করলে আমলাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরুলিয়ায় গিয়ে এমনই কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। জেলার উন্নয়নে কাজের গতি বাড়ানোর বার্তা দিয়েছেন তিনি। গতকাল, শুক্রবার পুরুলিয়ায় গিয়েছিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। সরকারি এক অনুষ্ঠানে তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, রাষ্ট্রমন্ত্রী নদিয়ারচাঁদ বাউড়ি।
শুক্রবার পুরুলিয়ায় জেলাস্তরের আধিকারিকদের কাজকর্ম নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। কাজকর্মের গতিপ্রকৃতি দেখে উষ্মাপ্রকাশ করেন রাষ্ট্রমন্ত্রী নদিয়ারচাঁদ বাউড়িও। জ্যোতির্ময় বলেন, "মন্ত্রীদের সামনেই বলছি আমার লোকসভা শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন আমি কন্টিনিউ ঘুরে বেড়াব। কোথাও কোনও কাজ না হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি লিখব। কাজ না করার সংস্কৃতি, ওই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে।" উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন বিভাগের একাধিক কাজে অন্যান্য জেলার চেয়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছে পুরুলিয়া। এসব তথ্য হাতে পেয়েই ক্ষুব্ধ হন জ্যোতির্ময়। তাঁর কথায়, "যদি কেউ মনে করেন পুরুলিয়া পানিশমেন্ট পোস্টিং, কোনও ভুলভাল করে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে বদলি হয়ে বেঁচে যাব। এটা ভাবার কোনও কারণ নেই। এমন হলে কোচবিহার, দার্জিলিং পাঠাব।"
তৃণমূল সরকারের আমলে একাধিক জেলা উন্নয়নে থমকে গিয়েছিল। আমলারাও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ। রাজ্যে পালাবদলে বিজেপি সরকারে আসার পরেই একাধিক পুরসভা, পঞ্চায়েত ভেঙে গিয়েছে। বহু গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতিতে কাজ বন্ধ! পঞ্চায়েত স্তরে কাজ বহু জায়গায় থমকে রয়েছে বলে অভিযোগ। কাজে ফাঁকি দিয়ে রাজনীতি করলে সোজা সুন্দরবনে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিলেন দিলীপ। পঞ্চায়েতমন্ত্রী বলেন, "প্রয়োজনে গ্রামোন্নয়নের কাজ দেখতে ব্লকে যাব। পঞ্চায়েতে যাব। ডিএমকে ছাড়াই যাব। কাজে গতি বাড়াতেই হবে।"
