"ঘুমাতে ঘুমাতে আমার এনুমারেশন ফর্ম আপলোড করেছিলে? বলেছিলাম, রাত জেগে কাজ করতে যেও না। ভুল হবেই।" বিএলও স্বামীর হাত থেকে শুনানির নোটিস (SIR Hearing) পেয়েই অগ্নিশর্মা স্ত্রী। তাঁর কোনও দোষ নেই বোঝাতে কাচুমাচু মুখে স্বামীর জবাব, "আমি কিছু ভুল করিনি। দ্যাখো আমাকেও হাজিরা দেওয়ার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে। আমার বাবার নামে নাকি, ভুল খুঁজে পেয়েছে নির্বাচন কমিশন।" উভয় সংকটে পড়েছেন কাটোয়ার কেতুগ্রাম ২ ব্লকের কোরলা গ্রামের বিএলও।
দেবশংকর চট্টোপাধ্যায় আমগড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় ও ছেলেকে নিয়ে থাকেন কাটোয়া শহরের চৌরঙ্গী মোড় এলাকায়। দম্পতি কেতুগ্রাম বিধানসভার ১৬৫ অংশের ভোটার। এই বুথেরই বিএলওর দায়িত্ব পেয়েছেন দেবশংকর। কেন নোটিস (SIR in West Bengal) পেলেন দেবশংকর ও তাঁর স্ত্রী তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরাই। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, অনিন্দিতাদেবীর বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক থাকায় এই ডাক। তাঁর কথায়, "আমার বাবা অনিল চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার বয়সের ফারাক ৩০ বছর। কিন্তু ৫০ বছর ফারাক কী করে হল? সেটাই মাথায় ঢুকছে না।"
দেবশংকরবাবু জানিয়েছেন, ১৬৫ নম্বর বুথের মোট ভোটার সংখ্যা ৭১২ জন। তার মধ্যে প্রথম দফায় ৭ জনকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। দ্বিতীয় দফায় ৬২ জনের শুনানির নোটিস এসেছে। তার মধ্যে রয়েছেন খোদ তাঁর স্ত্রী অনিন্দিতাদেবীর নাম। শুধু স্ত্রীর নামে শুনানির নোটিস নয়, ডাকা হয়েছিল খোদ বিএলওকেও। দেবশংকরবাবু বলেন, "আমাকেও হাজিরা দেওয়ার জন্য নোটিস করা হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "কীভাবে এই ধরনের গণহারে ডিসক্রিপেন্সি দেখা যাচ্ছে সেটা আমাদের মাথায় ঢুকছে না। শুধু আমার স্ত্রী নন, এলাকার বহু ভোটারদের অযথা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। বহু মানুষকে কৈফিয়ত দিতে হচ্ছে।"
বুধবার কেতুগ্রাম ২ বিডিও অফিসে শুনানিতে আসেন অনিন্দিতাদেবী। সঙ্গে ছিলেন স্বামীও। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে শুনানির পর যখন বাড়ি ফিরছেন তখনও রাগ কমছেই না। দেবশংকর চট্টোপাধ্যায় আক্ষেপ করে বলেন, "এই হয়রানির জন্য আমার স্ত্রী খুব রেগে আছেন। সেই রাগ এসে পড়ছে আমারই উপর।"
