অবশেষে এসআইআরের তালিকায় বিচারাধীন ভোটারদের নামের নিষ্পত্তি করে ফেলল কমিশন নিযুক্ত ট্রাইব্যুনাল। সোমবার মাঝরাতে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিচারাধীন ভোটারদের মধ্যে অর্ধেকের বেশিই যোগ্য। বাদ পড়েছেন ২৭ লক্ষের সামান্য বেশি ভোটার। আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন। তার আগে সোমবার রাত পর্যন্ত বিচারাধীন ৬০ লক্ষ ৬৬ হাজার ৭৫ জন ভোটারের মধ্যে ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জন যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। এঁরা ভোট দিতে পারবেন। ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন 'অযোগ্য' বলে চিহ্নিত হয়েছেন। এঁরা অবশ্য ফের ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। এসআইআর পর্ব সম্পূর্ণ হওয়ার পর হিসেব বলছে, বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা মোট ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময়েই বাদ গিয়েছিল ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম। এবার তাতে যুক্ত হল আরও ২৭ লক্ষ ১৬ হাতার ৩৯৩।
সোমবার রাত পর্যন্ত বিচারাধীন ৬০ লক্ষ ৬৬ হাজার ৭৫ জন ভোটারের মধ্যে ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জন যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। এঁরা ভোট দিতে পারবেন। ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন 'অযোগ্য' বলে চিহ্নিত হয়েছেন। এঁরা অবশ্য ফের ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। এসআইআর পর্ব সম্পূর্ণ হওয়ার পর হিসেব বলছে, বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা মোট ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫।
কিন্তু যাঁরা অযোগ্য বলে বিবেচিত হলেন, তাঁদের আবেদন ট্রাইব্যুনালে আর্জি গ্রাহ্য হলে তাঁরা ২৩ এপ্রিল ভোট পারবেন কি? তা নিয়ে সংশয় কাটল না সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে। কারণ, আইনত প্রথম দফার ভোটের জন্য সোমবার রাতের মধ্যেই ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার কথা। শুধুমাত্র ডিজিটাল সিগনেচার আপলোড করার জন্য পোর্টাল ৭ এপ্রিল পর্যন্ত খোলা থাকবে। সোমবারই ছিল প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। সর্বোচ্চ আদালতে দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের ক্ষীণ হলেও আশা জিইয়ে রইল। যদিও ট্রাইব্যুনালের কাজে কোনও সময় বেঁধে দিতে চায়নি সুপ্রিম কোর্ট। বৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাওয়া 'পীড়াদায়ক' বলেই মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। কারও নাম বাদ গেলে তাঁর ভোটাধিকার স্থায়ীভাবে কেড়ে নেওয়া যাবে না বলেও আদালত আগেই জানিয়েছে। সোমবার মাঝরাতে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী -
- 'অযোগ্য' ভোটার মুর্শিদাবাদে সর্বোচ্চ - ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭
- মালদহ ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৩৭৫
- উত্তর ২৪ পরগনায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৬৬
- দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২ লক্ষ ২২ হাজার ৯২৯
- উত্তর দিনাজপুরে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ৯৭২
- হাওড়ায় ১ লক্ষ ৩২ হাজার ১৫১
- পূর্ব বর্ধমানে ২ লক্ষ ৯ হাজার ৮০৫
- বীরভূমে ৮২ হাজার ৫৯
- কোচবিহারে ১ লক্ষ ২০ হাজার ৭২৫
- পূর্ব মেদিনীপুরে ১৯ হাজার ৫৭২
- পশ্চিম মেদিনীপুরে ৫২ হাজার ২৭৭
- পশ্চিম বর্ধমান ৭৪ হাজার ১০০
- হুগলি ১ লক্ষ ২০ হাজার ৮১৩
- জলপাইগুড়ি ৩৫ হাজার ৩৫৬
- দার্জিলিং ৪৪ হাজার ২৩০
- দক্ষিণ দিনাজপুর ৭৬ হাজার ৭৬৮
- নদিয়া ২ লক্ষ ৮ হাজার ৬২৬
- কলকাতা (দক্ষিণ) ২৮ হাজার ৪৬৮
- কলকাতা (উত্তর) ৩৮ হাজার ১৬৪।
তুলনামূলক কম নাম বাদের তালিকায় রয়েছে পুরুলিয়া, এখানে বাদ পড়েছে ৫ হাজার ৯৪২ জনের নাম। বাঁকুড়া ৬ হাজার ৫৩৩, আলিপুরদুয়ারে ৩৬ হাজার ৭৮, কালিম্পংয়ে ২ হাজার ৪০৭ এবং ঝাড়গ্রাম ১ হাজার ২৪০ জনের নাম বাদ পড়েছে। জেলাওয়াড়ি হিসাব থেকে স্পষ্ট তথ্যগত অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সির তালিকায় 'অযোগ্য' ঘোষিত তথা নাম বাদ পড়াদের মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যাই সিংহভাগ।
