অরিজিৎ গুপ্ত, হাওড়া: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার শুনানিতে ডাক পেলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের প্রাক্তন সাংসদ চিকিৎসক তরুণকুমার মণ্ডল।মঙ্গলবার দুপুর ১২টা নাগাদ শিবপুরের বি গার্ডেনের কলেজঘাট রোডে পূর্তদপ্তরের অফিসে শুনানিতে হাজির হতে বলা হয় তরুণবাবুকে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতোই তরুণবাবু এদিন যাবতীয় নথি নিয়ে শুনানিতে অংশ নেন।
২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তরুণবাবুর নাম নেই। রয়েছে তাঁর মায়ের নাম। সেই তথ্য দিয়েছিলেন। তবুও তাঁকে এসআইআরের শুনানিতে ডাকা হয়। শুনানিতে যাওয়ার পর তাঁর প্রশ্ন তাহলে কি, "২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৫ বছর লোকসভায় কি বাংলাদেশের লোক সাংসদ ছিলেন?"
কিন্তু তরুণবাবুর নাম কেন নেই ২০০২ সালের তালিকায়? তাঁর বক্তব্য, ২০০২ সালে তিনি মহারাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি করতেন। হাওড়ায় বি গার্ডেনের বাড়িতে না থাকায় তাঁর নাম ভোটার তালিকায় ওঠেনি। তারপর ২০০৯ সালে তিনি এসইউসিআইয়ের সাংসদ হন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি লোকসভায় প্রতিনিধিত্ব করেন।
তরুণবাবুর কথায়, "২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার নাম না থাকতে পারে। কিন্তু ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আমি লোকসভার সাংসদ হয়েছিলাম। ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে তাহলে আমি কীভাবে সাংসদ হলাম? তবে কি কেউ বাংলাদেশ থেকে এসে ভারতের লোকসভায় সাংসদ হয়ে গেল? এই প্রশ্ন আমি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের করেছি।" তাঁর আরও বক্তব্য, "প্রথমত, আমি সাংসদ ছিলাম। দ্বিতীয়ত, আমি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ছিলাম। ফলে নির্বাচন কমিশনের কাছে আমার সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য থাকার কথা। যদি নাও থাকে তাহলেও নির্বাচন কমিশন সহজেই আমার সম্পর্কে তথ্য পেয়ে যেতে পারে।"
হাওড়া জেলা পরিষদের-সহ সভাধিপতি তৃণমূলের অজয় ভট্টাচার্য, দক্ষিণ হাওড়ার বিধায়ক তৃণমূলের নন্দিতা চৌধুরীর পর এবার এসআইআরের শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটারের তালিকায় উঠেছে তরুণবাবু নাম। লক্ষ লক্ষ মানুষকে ডাকা হচ্ছে শুনানিতে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, অযথা ভোটারদের ডেকে হয়রানি করা হচ্ছে। এই আতঙ্কে প্রাণ যাচ্ছে অনেকের। এসইউসিআইয়ের প্রাক্তন সাংসদের অভিযোগ, "আসলে এভাবে নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। শুধু আমাকে নয়, নানা ছোট ছোট বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষকে ডাকা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা আমার নাম ভোটার তালিকায় উঠবে বলে আশ্বস্ত করতে পারেননি। দেখা যাক কমিশন কী করে? অপেক্ষায় রইলাম।"
