এসআইআরের শুনানিতে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় প্রাণ গিয়েছিল স্বামী ও দুই সন্তানের। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন স্ত্রী। ওই তরুণীও লড়াই করতে পারলেন না। মৃত্যু হল তাঁর। গতকাল, বুধবার হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় ওই মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা হয়েছিল। একসঙ্গে চারজনের মৃত্যুর ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া এলাকায়। দুই পরিবারে কান্নার রোল উঠেছে। এভাবে যে পথ দুর্ঘটনায় চারজনেরই প্রাণ চলে যাবে? বিশ্বাসই করতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।
এসআইআরে ডাক পেয়েছিল পরিবার। শুনানি কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে বাইকে করে যাচ্ছিলেন স্বামী-স্ত্রী। সঙ্গে ছিল তাঁদের দুই শিশু সন্তান। মুম্বই রোড ধরে যাওয়ার সময় ঘটে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। লরির ধাক্কায় মারা যান বাবা ও ছেলে-মেয়ে। মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনাটি ঘটে হাওড়ার উলুবেড়িয়া এলাকায়। মৃতরা হলেন ৩২ বছর বয়সী শেখ সিরাজ ও ছয় বছরের শেখ রিয়াজ, চার বছরের রিয়া খাতুন। গুরুতর জখম স্ত্রী সাবিনা বেগম ওরফে জ্যোৎস্না। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। তাঁর শারীরিক অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। যমে-মানুষের লড়াইয়ের পর তিনি হার মানলেন। আজ, বৃহস্পতিবার হাসপাতালেই মৃত্যু হল বিনা বেগম ওরফে জ্যোৎস্নারও।
বুধবার বেলা ১২ টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে চেকপোস্টের কাছে। ওই পরিবারের বাড়ি সাঁকরাইলে। যদিও তাঁরা বর্তমানে থাকতেন ধূলাগড় এলাকায়। শেখ রিয়াজ একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। জ্যোৎস্নার বাপের বাড়ি বাগনানে। সেখানেই তাঁরা এদিন যাচ্ছিলেন। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে খবর, এদিন জ্যোৎস্না, স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বাইকে চেপে ধূলাগড় থেকে বাপেরবাড়ি হাটুরিয়ায় যাচ্ছিলেন। ধূলাগড়ে তাঁরা থাকলেও জ্যোৎস্নার ভোটের সমস্ত কাগজপত্র তাঁর বাপেরবাড়ি বাগনান ১ নম্বর ব্লকের হাটুরিয়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাকায়।
পুলিশ গতকালই তিনজনের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছিল। কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটে, সেই তদন্তও শুরু হয়। তার মধ্যেই তরুণীর মৃত্যুর খবর আসে। গোটা ঘটনায় শোকস্তব্ধ এলাকা।
