ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির জের, উত্তরের চা বলয়ে খুশির হাওয়া। চা বণিকসভাগুলোর দাবি ওই চুক্তির ফলে চা শিল্পের জন্য নতুন আন্তর্জাতিক বাজার খুলবে। ভারতীয় চায়ের গুণমান এবং ইউরোপীয় মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। ওই কারণে ইউরোপীয় ভোক্তাদের মধ্যে ভারতীয় চা-এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে।
কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস চেয়ারম্যান তথা দার্জিলিং পাহাড়ের চা শিল্পপতি সতীশ মিত্রুকা বলেন, "ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতের চা শিল্প খুবই উপকৃত হবে। বিশেষ করে দার্জিলিং চা।" তিনি জানান, এখন বছরে ৫.২৫ মিলিয়ন কেজি দার্জিলিং চা উৎপাদন হয়ে থাকে। যার মধ্যে ৪ মিলিয়ন কেজি রপ্তানি হচ্ছে। এতদিন ভারত থেকে জার্মানিতে ২ মিলিয়ন কেজি চা যেত। সেখান থেকে পৌঁছাতো ইতালি, ফ্রান্স সহ বিভিন্ন দেশে। চুক্তির ফলে এখন সরাসরি ফ্রান্স, ইতালি সহ বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশগুলোতে দার্জিলিং চা পাঠানো সম্ভব হবে।
কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, "ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে চায়ের রপ্তানি বাড়বে। স্বাভাবিকভাবে গোটা চা শিল্প উপকৃত হবে।" তিনি জানান, দার্জিলিং ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ১ মিলিয়ন অর্থাৎ ১০ লক্ষ শ্রমিক প্রত্যক্ষভাবে এবং ৬ মিলিয়ন অর্থাৎ ৬০ লক্ষ মানুষ পরোক্ষভাবে চা শিল্পের উপরে নির্ভরশীল। অথচ আবহাওয়ার পরিবর্তন, দামের অনিশ্চয়তা এবং নিম্নমানের চা আমদানির ফলে এখানকার চা শিল্প চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের জেরে দার্জিলিং চায়ের উৎপাদন গত সাড়ে পাচ দশকে উদ্বেগজনক ভাবে কমেছে।
১৯৭০ সালে উৎপাদন ছিল ১৪ মিলিয়ন কেজি, সেখান থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৫.২৫ মিলিয়ন কেজি। নতুন চুক্তির ফলে ইউরোপীয় বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার লাভের মাধ্যমে দার্জিলিং চায়ের রপ্তানি বাড়বে। চা বণিকসভাগুলোর মতে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ভারতের চা শিল্পে সুদিন ফেরাতে পারে। চুক্তির ফলে ইউরোপীয় বাজারে বিশেষ করে অসম ও দার্জিলিং চায়ের প্রবেশ সহজ হবে এবং শুল্ক কমবে। এই ঐতিহাসিক চুক্তি চা শিল্পের রপ্তানি বৃদ্ধিতে, উৎপাদনকারীদের আয় বাড়াতে এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় ভারতীয় চা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
চুক্তির অধীন ৯৭শতাংশ থেকে ৯৯ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো বা বাতিল করা হতে পারে। এটা ভারতীয় চায়ের দাম ইউরোপের বাজারে কমাবে এবং প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। চা রপ্তানি বাড়বে এবং চা শিল্পের সঙ্গে জড়িত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এছাড়াও চুক্তিটি ভারতীয় চায়ের গুণমান এবং ইউরোপীয় মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। ইউরোপীয় ভোক্তাদের মধ্যে ভারতীয় চা-এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে।
