এক বছর আগে পুরীর আদলে দিঘার জগন্নাথ মন্দির গড়ে তুলেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মন্দির, ধাম নামকরণ নিয়ে তর্কবিতর্ক কম হয়নি। ছাব্বিশে রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর দিঘার সেই 'জগন্নাথধাম' তকমা তুলে নতুন নাম হয় জগন্নাথ সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে। আর তারপরই সেখানে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বাবা তথা প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী। রবিবার সন্ধ্যা নাগাদ তিনি দিঘার ওই সংস্কৃতি ক্ষেত্রে গিয়ে একেবারে 'কৃষ্ণনামে' মজে গেলেন! গলায় মালা, দু'হাত তুলে নেচে রীতিমতো সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন অশীতিপর শিশিরবাবু।
এমন অচেনা রূপে তাঁকে দেখে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন। জবাবে প্রাক্তন সাংসদ বললেন, ‘‘এটা আমাদের পারিবারিক স্টাইল। রাধাকৃষ্ণ কুলদেবতা। সবসময় তাঁকে পুজো করে, আশীর্বাদ নিয়ে আমরা এগিয়ে যাই।'' যেভাবে দিঘায় জগন্নাথদেবের পূজার্চনা হচ্ছে, তা দেখে বেশ আনন্দিত তিনি। গোটা কৃতিত্বই দিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য রাধারমণ দাসকে। শিশিরবাবুর কথায়, ‘‘রাধারমণবাবু যেভাবে এখানকার কাজকর্ম সামলাচ্ছেন, পুজো করছেন, মনে হচ্ছে উনিই সব। অন্যরা তাঁর নির্দেশ মেনে সুন্দরভাবে সবটা করছেন। আমার খুব ভালো লাগল।''
দিঘার জগন্নাথ সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পুজো দিলেন শিশির অধিকারী। নিজস্ব ছবি
আগামী ১৬ জুলাই রথযাত্রা। ওইদিন দিঘায় জগন্নাথদেবের রথযাত্রার সূচনা করতে মুখ্যমন্ত্রীর বাবাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য রাধারমণ দাস। রবিবারই অভ্যন্তরীণ কারণে ইসকন, কলকাতার ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ খুইয়েছেন রাধারমণ দাস। এরপরই তিনি দিঘার জগন্নাথ সংস্কৃতি ক্ষেত্রে পৌঁছে যান। সোমবার, জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার প্রস্তুতি শুরু করেন। তাঁর কথায়, ‘‘সকল ভক্তদের স্নানযাত্রায় আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। সকাল সকাল সবাই এখানে চলে আসুন। আমাদের প্রস্তুতি একেবারে শেষ। আর এমন দিনে আমরা মাননীয় শিশির অধিকারীকে আমাদের মধ্যে পেয়েছি, খুবই আনন্দিত। ওঁকে বলেছি, রথযাত্রার দিন এখানে এসে উদ্বোধন করতে।''
২০২৫ সালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে দিঘার এই জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন হয়। সেবার মহাসমারোহে রথযাত্রা পালিত হয়েছিল। মমতা নিজে সেখানে থেকে সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বিজেপি সরকারের আমলে রথযাত্রা উদযাপন নিয়ে আলাদা পরিকল্পনার সম্ভাবনাই বেশি।তবে কি দিঘার রথযাত্রার সূচনা হবে মুখ্যমন্ত্রীর বাবার হাত ধরেই? রবিবার দিঘার জগন্নাথ সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে শিশিরবাবুর প্রথম আগমনে তার ইঙ্গিত মিলছে।
