গোপন সূত্রে খবর ছিল প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র আসছে। সেই খবর শুনেই মাঝির বেশে মাঝগঙ্গায় জাল বিছিয়েছিল পুলিশ। পাচারকারীরা আন্দাজও করতে পারেনি এমনভাবে পুলিশ 'অপারেশন' চালাতে পারে। অভিযানে গ্রেপ্তার হল এক পাচারকারী। উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, কার্তুজ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মালদহে (Malda)।
এপারে বাংলা। ওপারে ঝাড়খণ্ড। দুই রাজ্যের সীমানা হয়ে বয়ে গিয়েছে গঙ্গা নদী। এই জলপথে অপারেশন চালিয়ে বড়সড় সাফল্য পেল মালদহ (Malda) জেলা পুলিশ। ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা এক পারাচকারী গ্রেপ্তার হয়েছে। ধৃতের নাম সাবির আলম। তাঁর বাড়ি ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলার অন্তর্গত রাধানগর থানার পিয়ারপুর গ্রামে। এই জলপথ দুষ্কৃতীরা পারাপারের অন্যতম একটি রুট বলে মনে করছে পুলিশও।
অভিযোগ, এপারে ভোট এলেই গঙ্গা টপকে ঝাড়খণ্ডের দুষ্কৃতীদের মালদহে আনাগোনা বেড়ে যায়। অস্ত্র এনে বিক্রি করে অবাধে ফিরে যায়! এমন পরিস্থিতিতে এবার ভোটের মুখে বাংলা-ঝাড়খণ্ড জলপথে দুষ্কৃতী পারাপার বন্ধ করতে ময়দানে নেমেছে জেলার কালিয়াচক ও বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশ। অভিনব কায়দায় নজরদারি শুরু করা হয়েছে। বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র আমদানি রুখতে নৌকার মাঝির ছদ্মবেশে মালদহ জেলা পুলিশের দুঁদে অফিসাররা। যার সুফল মিলেছে বুধবার।
সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ আধিকারিকরা। নিজস্ব চিত্র
তিন পাচারকারী অস্ত্র নিয়ে জলপথে আসছিল বলে অভিযোগ। জাল বিছানো আছে পুলিশের আন্দাজও করেনি তারা। পুলিশ আছে বুঝতে পেরে শেষমুহূর্তে নৌকা থেকে ঝাঁপ মারে দু'জন। তারা সাঁতরে পালাতে সক্ষম হয়। একজনকে বমালসমেত পাকড়াও করে পুলিশ। উদ্ধার হয় পাঁচটি সেভেন এমএম পিস্তল, ১০টি ম্যাগজিন এবং ২১ রাউন্ড তাজা কার্তুজ। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য বার করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। মালদহের পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, গঙ্গার ঘাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা এক অস্ত্র পাচারকারীকে। তারা তিনজন ছিল। দু'জন পালিয়ে যায়।
জেলা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, পাচারকারীরা বিপুল পরিমাণ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মালদহের চর বাবুপুর এলাকায় আসছিল। মাঝি যে পুলিশের লোক সেটা সে বুঝতে পারেনি। দু'জন নৌকা থেকে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ সুপার বলেন, "মালদহে কাদের অস্ত্র সরবরাহ করা হত? ধৃতের ব্যাকগ্রাউন্ড কী? সেই সব জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পলাতক দু'জনের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।"
