মুখ্যমন্ত্রী সভা বলে কথা। জনসমাগম উপচে পড়ে। নানাজনের নানা দায়িত্ব। কেউ আসেন মুখ্যমন্ত্রীর কথা শুনতে, তাঁকে দেখতে। কেউ আবার আসেন সভায় নিরাপত্তা দিতে। আবার কেউ কেউ আসেন শুধু ভালবেসে। কিন্তু একেবারে অন্যরূপে দেখা গেল এক ব্যক্তিকে। তিনি এসেছেন সাপ ধরতে। তবে তিনি জাত-সাপুড়ে নন। সাপকে বাঁচানোর জন্যই তিনি ছুটে যান বিভিন্ন এলাকায়। শনিবার ভাঙড়ের জীবনতলায় তৃণমূল সুপ্রিমোর নির্বাচনী সভায় দেখা গেল তেমনই একজনকে।
শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী সভার আগে পুলিশের তরফে কাবিল জমাদার নামে ওই ব্যক্তিকে খবর দেওয়া হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থলে থাকার জন্য। আর তাই তিনি সাপ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী সভাস্থলে। মূল মঞ্চের ঠিক পিছনে বসেছিলেন তিনি। ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের জীবনতলা থানার তামুলদহ এলাকাতে তাঁর বাড়ি। সেখান থেকেই তিনি সাপ ধরা সরঞ্জাম নিয়ে চলে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রীর সভায়। যদি কোনও কারণে সাপ ঢুকে পড়ে মুখ্যমন্ত্রী সভায়, তাহলে কী হবে? এই ভেবেই তাঁকে আনা হয়েছে সেখানে।
আসেল মমতা এদিন ভাঙড়ের যেখানে সভা করেছেন, তার আশপাশে যথেষ্ট এবং পুরনো বাগানবাড়ি অবস্থিত। তাই বিষধর প্রাণী থাকার সম্ভাবনা প্রবল। আর সেই কারণে সাবধানতা অবলম্বনের জন্যই কাবিলকে ডাকা। এ বিষয়ে কাবিল জমাদার বলেন, ''আমি সাপুড়ে নই। শুধুমাত্র বিষধর সাপ বা অন্য কোনও সাপ বাঁচানোর জন্য আমার সাপ ধরতে শেখা। বহু সাপকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে পরিবেশে পুনরায় ফেরত দিয়েছি। বনদপ্তরের তরফ থেকে মুখ্যমন্ত্রী সভাতে আমাকে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমি তাই চলে এসেছি। তবে কোনও সাপ আপাতত ধরা পড়েনি।''
