পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দাদা। আর কোনওদিন তাঁকে আগের মতো সশরীরে পাশে পাবেন না বোন। ময়নাতদন্তে নিয়ে যাওয়ার আগে দাদার নিথর হাতেই রাখি পরালেন বোন। সোনারপুরে (Sonarpur) এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেউই।
বৃহস্পতিবার সাগ্নিক সেন ও শৌনক ভট্টাচার্য নামে দুই যুবক-সহ মোট পাঁচ যুবক বারুইপুর থেকে ফিরছিলেন। তাঁরা দু'জনেই যাদবপুরের বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চৌহাটি সংলগ্ন এলাকায় একটি স্কুলের সামনে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। একটি গাছে ধাক্কা মারে গাড়ি। গাড়িতে মোট পাঁচজন ছিলেন। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’জনের। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।
শুক্রবার দুপুরে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। তার আগে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন উপস্থিত সকলে। দাদাকে শেষবারের মতো রাখি পরালেন সাগ্নিকের বোন। ভাইয়ের নিথর হাতে রাখি পরাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকের চোখেও জল চলে আসে। কাঁদতে কাঁদতে বোনের আর্তনাদ, "শেষ রাখি পরিয়ে দিলাম। আর কোনওদিন রাখি পরাতে পারব না তোকে!" এদিকে, কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখছে সোনারপুর থানার পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গাড়িটি কমপক্ষে ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় বেপরোয়া গতিতে চলছিল। সম্ভবত সে কারণে গাড়িটি দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় গাড়িচালক এবং সওয়ারিরা মদ্যপ ছিলেন কিনা - তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
