shono
Advertisement
Sujata Mondal

তৃণমূল ছাড়লেন সুজাতা, 'অভয়ার ঘটনার সময়েই...', বিবেক দংশনে ভুগেই সিদ্ধান্ত!

তৃণমূল নেতা তারাশঙ্কর রায়ের বক্তব্য, “তৃণমূল কংগ্রেসে ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। কেউ ব্যক্তিগত কারণে দল ছাড়লে সংগঠনের উপর তার কোনও প্রভাব পড়বে না।”
Published By: Kousik SinhaPosted: 07:15 PM May 13, 2026Updated: 07:16 PM May 13, 2026

ভোটের ফলপ্রকাশ হয়েছে মাত্র কয়েকটা দিন হয়েছে। বাংলার মসনদে এখন বিজেপির সরকার। ভোটের এহেন ফলাফল সামনে আসতেই একের পর এক তৃণমূল নেতা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। যা নিয়ে রীতিমতো চাপে তৃণমূল। এহেন রাজনৈতিক অস্বস্তির মধ্যেই বাঁকুড়া জেলা পরিষদে রীতিমতো বিস্ফোরণ! ‘বিবেক দংশন’-এর কথা বলে মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুজাতা মণ্ডল। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণাও করলেন তিনি। বুধবার জেলা পরিষদ ভবনের সামনে সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর এই ঘোষণার পরেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা।

Advertisement

এক সময় বিজেপির মঞ্চে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আগুনঝরা ভাষণ দিতেন সুজাতা। পরে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সমীকরণের রং বদলাতেই বদলে যায় দলীয় পতাকাও। বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপি ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন সুজাতা। একেবারে কলকাতায় এসে শীর্ষ নেতৃত্বের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। তখন অবশ্য কারণ ছিল ‘সম্মান রক্ষা’! আর এ বার কারণ ‘বিবেকের দংশন’। রাজনৈতিক মহলের কটাক্ষ, বাংলার রাজনীতিতে এখন মতাদর্শের চেয়ে অভিধানের শব্দই বেশি ঘোরাফেরা করে। 

সাংবাদিক বৈঠকে সুজাতা বলেন, ''বর্তমান পরিস্থিতিতে বিবেকের সঙ্গে আপস করে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। তাই সমস্ত পদ ও সম্পর্ক ছেড়ে দিলাম।'' তাঁর কথায়, ''অভয়ার ঘটনার সময়েই বিবেক দংশনে তৃণমূল ত্যাগ করতে চেয়েছিলাম। আমি একজন নারী। সবসময় মানসিক যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত হতাম। কিন্তু পারিবারিক কারণে দল ছাড়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু আজ থেকে আমি একেবারেই সাধারণ একজন।'' তবে আগামিদিনে অন্য দলে যোগ দেবেন সুজাতা? যদিও সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে সুজাতার এহেন সিদ্ধান্তে বিরোধীদের কটাক্ষ, “ক্ষমতার চেয়ারে বসে থাকার সময় কি বিবেক ছুটিতে ছিল?” ঘটনায় অস্বস্তি চেপে রাখার চেষ্টা করেছেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনুসূয়া রায়। তিনি বলেন, ''এটা সম্পূর্ণ ওঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। দল নিজের গতিতেই চলবে। একজন চলে গেলে সংগঠনের কোনও ক্ষতি হবে না।'' যদিও রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, ''যাঁদের কোনও গুরুত্ব নেই, তাঁদের নিয়েই বারবার ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে কেন?”

সুজাতা বলেন, ''বর্তমান পরিস্থিতিতে বিবেকের সঙ্গে আপস করে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। তাই সমস্ত পদ ও সম্পর্ক ছেড়ে দিলাম।'' তাঁর কথায়, ''অভয়ার ঘটনার সময়েই বিবেক দংশনে তৃণমূল ত্যাগ করতে চেয়েছিলাম। আমি একজন নারী। সবসময় মানসিক যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত হতাম। কিন্তু পারিবারিক কারণে দল ছাড়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু আজ থেকে আমি একেবারেই সাধারণ একজন।''

একই সুর শোনা গিয়েছে বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি তারাশঙ্কর রায়ের গলাতেও। তারাশঙ্কর রায়ের বক্তব্য, “তৃণমূল কংগ্রেসে ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। কেউ ব্যক্তিগত কারণে দল ছাড়লে সংগঠনের উপর তার কোনও প্রভাব পড়বে না।” তবে বিরোধীদের কটাক্ষ, “দল এতটাই শক্তিশালী যে ভোটের ফল বেরোতেই একের পর এক নেতার বিবেক জেগে উঠছে।” সুযোগ হাতছাড়া করেনি বিজেপিও। বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূলে এখন ভাঙনের সুর স্পষ্ট। ভোটের ফল প্রকাশের পর নেতাদের বিবেক জাগছে। মানুষ সব বুঝে গিয়েছেন।”

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement