নব্যেন্দু হাজরা: ফের বাংলা নিয়ে বিতর্ক রেলমন্ত্রকে। ভারতীয় রেলের সৌজন্যে বাংলার 'সিউড়ি' স্টেশন হয়ে গিয়েছে ‘সৌদি স্টেশন’! যা দেখে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে নেটমাধ্যমে। বাংলাতেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অবাঙালিদের হাতে রেলের দায়িত্বভার থাকায় যা হওয়ার তাই হচ্ছে, বলছেন অনেকে। কারও মতে বিভিন্ন অ্যাপে ইংরেজির অনুবাদ করতে গিয়েই এই বিপত্তি।
ঘটনাটি হল, মিনিস্ট্রি অফ রেলওয়েস, গর্ভমেন্ট অফ ইন্ডিয়ার পেজে সিউড়ি স্টেশনে আধুনিকীকরণের বহর তুলে ধরতে গিয়ে বলা হয়েছে ‘সৌদি রেল স্টেশন’। অমৃতস্টেশনের ছ’টি ছবি দিয়ে সেখানে লেখা হয়েছে, ‘রেল উন্নয়নের নতুন পরিচয় হলো পশ্চিমঙ্গের সৌদি রেলস্টেশন। স্টেশন বিল্ডিং, স্টেশন, বিশ্রামাগারের ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে, গ্র্যান্ড স্টেশন বিল্ডিং, বিস্তারিত প্ল্যাটফর্ম আশ্রয়কেন্দ্র ও পার্কিং এলাকা। লিফট এবং প্রতিবন্ধী বন্ধুত্বপূর্ণ সুবিধা। ভালো সাইন এবং আরামদায়ক ওয়েটিং রুম।’
রেলমন্ত্রকের ফেসবুক পেজে সিউড়ি হল সৌদি।
এমন বাংলা দেখে স্বাভাবিকভাবেই ঢোঁক গিলছেন বাঙালিরা। তাঁদের কথায়, এভাবে বাংলা ভাষার হত্যা না করলেও পারে রেল। তবে রেলের অধিকারিকদের একাংশই বলছেন, রেলের এই বাংলা ভাষা নিয়ে ছেলেখেলা নতুন নয়। গুগল ট্রান্সলেটর দিয়ে এমন বাংলায় প্রচার চালানো হয়, যা শুধু মানুষকে বিভ্রান্তই করে না, মানুষ বিরক্তও হন। রেলের প্রতি বিরূপ মত পোষণ করেন। এর আগেও একাধিকবার রেল এবং মেট্রোয় এই ভাষার গন্ডগোল হয়েছে।
বিনা টিকিটের যাত্রী রুখতে প্রচারে মেট্রো স্টেশনে লেখা রয়েছে, ‘বিশাল টিকিট পরীক্ষা অভিযান চলছে। বিব্রত ও লজ্জিত হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে সর্বদা মেট্রোতে সঠিক টিকিট নিয়ে চড়ুন।' বাংলা ভাষার এমন বহর দেখে তখনও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই বলছেন, ‘বিশাল টিকিট পরীক্ষা অভিযান’ এটা কেমন বাংলা লেখা? ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনের লিফটের ভিতরে এই ‘আপার কনকোর্স’ এলাকাকে বাংলায় লেখা হয়েছে ‘উচ্চ মোড়া’, মেজেনাইন ফ্লোরকে বাংলায় লেখা ‘মাঝে তলা’। যাকে সাধারণত 'মধ্যবর্তী তল' বলা হয়। শিয়ালদহ মেট্রো উদ্বোধনের সময়ও স্টেশনে লেখা বানানে বিস্তর ভুল ছিল। স্বাভাবিকভাবেই তাই সমালোচনা চলছে নেটদুনিয়ায়।
