আগামীকাল বৃহস্পতিবার মায়াপুর সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সকাল ১১ টা নাগাদ হেলিকপ্টারে করে মায়াপুরের হেলিপ্যাডে নামবেন তিনি। সূত্রের খবর, মায়াপুরে নেমে ইসকনের গোশালায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী গোমাতার পুজো করবেন। এরপর একটি যজ্ঞানুষ্ঠানেও তাঁর অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে। বিজেপির তরফে এখনও এবিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। যদিও জানা গিয়েছে, এটি শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সফর। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম মায়াপুর ইসকনে পা রাখতে চলেছেন তিনি।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে হেলিকপ্টারে চেপে কলকাতা থেকে মায়াপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তাঁর সঙ্গে দলের কয়েকজন সাংসদ ও বিধায়কও থাকতে পারেন। সকাল ১১ টা নাগাদ ইসকন চত্বরের হেলিপ্যাডে পৌঁছবে তাঁর হেলিকপ্টার। সেখানেই ইসকন কর্তৃপক্ষ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাবেন। এরপর তিনি সরাসরি ইসকনের গোশালায় গিয়ে গোমাতার উদ্দেশ্যে বিশেষ পুজো, হোমযজ্ঞ ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে খবর। পাশাপাশি নিজের হাতে বিশেষ ধরনের লাড্ডু খাইয়ে গোমাতার সেবা করবেন তিনি। জানা গিয়েছে, এই সফরে তিনি সাধুসন্তদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেই বৈঠকে তিনি কী নিয়ে আলোচনা করবেন সেদিকেই নজর রয়েছে।
ইসকনের জনসংযোগ আধিকারিক রসিক গৌরাঙ্গ দাস জানান, মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর সম্পূর্ণ ধর্মীয় ভাবনা থেকেই আয়োজন করা হয়েছে। তবে নবনির্মিত চন্দ্রোদয় মন্দির বা অন্যান্য বিগ্রহ দর্শনের কোনও নির্দিষ্ট সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রসাদ গ্রহণের বিষয়েও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বুধবার থেকেই মায়াপুর ইসকন চত্বরে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। হেলিপ্যাড সংলগ্ন এলাকা পরিষ্কার করা, রাস্তা সংস্কার, জলনিকাশি ব্যবস্থার মেরামত-সহ একাধিক পরিকাঠামোগত কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। বুধবার দুপুর আনুমানিক দেড়টা নাগাদ হেলিকপ্টার ট্রায়ালও করা হয় বলে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও থাকছে চোখে পড়ার মতো। রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই ইসকন চত্বর ঘুরে দেখেছেন। সফরকে ঘিরে গোটা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ইসকন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর খুব স্বল্প সময়ের হলেও তাঁর সঙ্গে একাধিক জেলা ও রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিক উপস্থিত থাকতে পারেন। তবে অনুষ্ঠানে কোনও রাজনৈতিক নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না বলেই জানা গিয়েছে। ধর্মীয় আবহে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে গোটা ইসকন চত্বর।
