shono
Advertisement
Murshidabad

ছাদেই বিদেশি ফলের স্বর্গ! মুর্শিদাবাদে বৃদ্ধের বাগানে ফলছে ৮০ ডলারের 'ডিম আম'

মুর্শিদাবাদের সুতি থানার নতুন চান্দড়া গ্রামের বাসিন্দা ৭০ বছরের বৃদ্ধ গিয়াশুদ্দিন বিশ্বাস। পেশায় একজন কৃষক। গত ৫ বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম আর ভালোবাসা দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন তাঁর ছাদ বাগান।
Published By: Kousik SinhaPosted: 09:01 PM Jul 12, 2026Updated: 09:08 PM Jul 12, 2026

বাড়ির ছাদেই গড়ে তুলেছেন এক টুকরো সবুজ স্বর্গ! দেশ-বিদেশের ৪৬ প্রজাতির ফলের গাছে সাজানো সেই বাগানের মধ্যমণি এখন জাপানের দুর্লভ 'মিয়াজাকি আম'। আন্তর্জাতিক বাজারে যার দাম প্রায় কেজি প্রতি ৮০ ডলার। দাম আর রঙের জন্যই যাকে বলা হয় 'ডিম আম'।

Advertisement

শুধু মিয়াজাকি নয়, গিয়াশুদ্দিনের ছাদ বাগান যেন একটা মিনি বিশ্ব! এখানে রয়েছে থাইল্যান্ডের বারি-৪ আম, আরবের আজোয়া খেজুর ও খুরমা খেজুর। পাশাপাশি রয়েছে হিমাচলের আপেল, ভিয়েতনামের ড্রাগন, কামরাঙা, জামরুল, থাই সবেদা, তাইওয়ানের পেয়ারা, বার্মার কাঁঠাল, ব্ল্যাক জাম, মৌসুমি লেবু, কমলা-সহ মোট ৪৬ প্রজাতির ফলের গাছ।

মুর্শিদাবাদের সুতি থানার নতুন চান্দড়া গ্রামের বাসিন্দা ৭০ বছরের বৃদ্ধ গিয়াশুদ্দিন বিশ্বাস। পেশায় একজন কৃষক। গত ৫ বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম আর ভালোবাসা দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন তাঁর ছাদ বাগান। দীর্ঘসময় একেবারে খালি পড়ে থাকা ছাদ আজ পরিণত হয়েছে ফলের ভান্ডারে। ২০২০ সালে হুগলির আরামবাগের একটি নার্সারি থেকে একটি জাপানি মিয়াজাকি আমের চারা কিনে এনেছিলেন। তখন অনেকে হেসেছিল! বলেছিল, "এই আবহাওয়ায় হবে না।" কিন্তু গিয়াশুদ্দিন দমে যাননি। প্রতিদিন পরিচর্যা, সার, জল আর নজরদারি। আজ সেই গাছেই থোকা থোকা ফল ঝুলছে। গাছের প্রতিটি আম সবুজ জাল দিয়ে মুড়ে রাখা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই - যাতে রোদ সমানভাবে লাগে, রং ধরে এবং পাখি বা পোকায় নষ্ট না হয়। মিয়াজাকি আমের বিশেষত্ব হল এর রং। পাকলে গাঢ় লালচে-বেগুনি হয়ে যায়। দেখতে অনেকটা ডিমের মতো! স্বাদে অত্যন্ত মিষ্টি এবং গন্ধে ভরপুর। এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। জাপানে এই আম উপহার হিসেবে দেওয়ার প্রচলন আছে। এবার সেই আমের ফলন বাংলার বুকে!

শুধু মিয়াজাকি নয়, গিয়াশুদ্দিনের ছাদ বাগান যেন একটা মিনি বিশ্ব! এখানে রয়েছে থাইল্যান্ডের বারি-৪ আম, আরবের আজোয়া খেজুর ও খুরমা খেজুর। পাশাপাশি রয়েছে হিমাচলের আপেল, ভিয়েতনামের ড্রাগন, কামরাঙা, জামরুল, থাই সবেদা, তাইওয়ানের পেয়ারা, বার্মার কাঁঠাল, ব্ল্যাক জাম, মৌসুমি লেবু, কমলা-সহ মোট ৪৬ প্রজাতির ফলের গাছ। সবই টবে এবং ড্রামে লাগানো। কিন্তু কীভাবে গাছের পরিচর্চা করেন গিয়াশুদ্দিন! জানা যায়, প্রতিদিন সকাল-বিকেল তিনি নিজে হাতে গাছের পরিচর্যা করেন। জৈব সার ব্যবহার করেন। রাসায়নিক কীটনাশক একদম নেই। কৃষক গিয়াসউদ্দিনের কথায়, "গাছও মানুষের মতো। যত্ন করলে ফল দেবেই।" এদিকে দামি এই ফল দেখতে এখন প্রতিদিনই ভিড় জমছে গিয়াশুদ্দিনের বাড়িতে। দূর-দূরান্ত থেকে কৃষি আধিকারিক থেকে সাধারণ মানুষ আসছেন। স্থানীয়রাও অবাক তাঁর এই উদ্যোগে। অনেকে পরামর্শ নিতে আসছেন কিভাবে ছাদে বাগান করা যায়।গিয়াশুদ্দিনের কথায়, "ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে ছাদেও সোনা ফলানো যায়। আমার স্বপ্ন, এই বাগান দেখে গ্রামের যুবকরা কৃষিতে আগ্রহী হবে।" তাঁর এই ছাদ বাগান এখন গোটা এলাকার কাছে কৌতূহল এবং অনুপ্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement