তৃণমূলের উন্নয়নের পাঁচালি ট্যাবলোর পাল্টা কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়ন নির্ভর ট্যাবলোর উপর হামলা চালাল স্থানীয় আদি বিজেপি নেতা-কর্মীরা। এই ট্যাবলো নব্য বিজেপির উদ্যোগে তৈরি। অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম ২ ব্লকের বয়াল ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের নবনির্মিত কার্যালয় ভবনের উদ্বোধন ঘিরেও বিজেপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এল। ওই অফিস উদ্বোধনে ডিএম, এসপি-রা এলেও ডাক পেলেন না স্থানীয় বিধায়ক তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। যদিও এই পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে এবং এখানকার প্রধান হচ্ছেন তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি পবিত্র করের স্ত্রী শিউলি কর। দুই ঘটনায় ফের নন্দীগ্রামে বিজেপির অন্তর্কলহ প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে। যা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রাজনৈতিক মহলে। অস্বস্তি এতটাই যে, বিজেপির নেতারাও স্পষ্ট করে কোনও কথা বলতে পারছেন না।
বস্তুত, বয়াল এলাকায় বিজেপি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার। যার জেরে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে এখানকার প্রধান কিংবা প্রধানের স্বামীর। তাছাড়া এখনই কানাঘুঁষো খবর, বিজেপি সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি পবিত্র করের সঙ্গে যতটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর, ততটাই সখ্য বেড়েছে তৃণমূলের। শোনা যাচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পবিত্র কর, স্ত্রী পঞ্চায়েত প্রধান শিউলি কর-সহ দলবল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে কেউ কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বস্তুত, নন্দীগ্রামের দুটি ব্লকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবির ঘিরেও উজ্জীবিত তৃণমূল।
তৃণমূলের স্বাস্থ্য শিবির কর্মসূচি নন্দীগ্রামের তৃণমূল কর্মীদের যেমন মনোবল বাড়িয়েছে, তেমনই বিধানসভা নির্বাচনের আগে গেরুয়া শিবিরের ঘর ভাঙতে সহজ করেছে। তবে পবিত্র করের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি শুধু বলেন, “৮-১০ দিন অপেক্ষা করুন সব জবাব পাবেন। এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাই না।” পবিত্রবাবুর এমন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য কিন্তু রাজনৈতিক মহলে সাড়া ফেলেছে। নন্দীগ্রাম ২ ব্লকের যুব তৃণমূলের সভাপতি রবীন জানা বলেন, বিজেপি পরিচালিত বয়াল ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারীকে আমন্ত্রণ জানায়নি বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) নন্দীগ্রামে বিজেপি চাইছে না এটা তারই প্রমাণ।”
এদিকে, সোমবার সকালে নন্দীগ্রাম (Nandigram) এক নম্বর ব্লকের সোনাচূড়া এবং কালীচরণপুর এলাকায় নন্দীগ্রাম তিন নম্বর মণ্ডলের উদ্যোগে কালীচরণপুর, সোনাচূড়া এলাকায় সকাল থেকে ট্যাবলো সাজিয়ে মাইক বেঁধে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি প্রচার করা হয়েছিল। আর তাতেই বাধ সাধেন স্থানীয় আদি বিজেপি নেতাকর্মীরা। বিজেপির নন্দীগ্রাম তিন নম্বর মণ্ডল সভাপতি বটকৃষ্ণ দাস বলেন, “শুনেছি আমাদের ট্যাবলোর উপর কিছু মানুষ হামলা চালিয়েছেন। কারা করেছেন এখন সঠিকভাবে জানা নেই। তবে তাঁরা এটা অন্যায় কাজ করেছেন।”
