shono
Advertisement
Saraswati Puja 2026

লিখবেন স্বয়ং দেবী সরস্বতী! ডিজিটাল যুগেও 'ভরসা' খাগের কলম, বিপুল চাহিদা পুরুলিয়ায়

দোয়াতে লাল রঙা একটি কালি বড়ি ফেলে দুধ ও সামান্য পরিমাণে মধু মিশিয়ে ওই খাগের কলমে লেখা হয়। এবং তা লেখেন স্বয়ং সরস্বতী!
Published By: Subhankar PatraPosted: 01:54 PM Jan 20, 2026Updated: 02:43 PM Jan 20, 2026

লিখবেন বিদ্যার দেবী! ডিজিটাল যুগেও মুছে যায়নি এই ঐতিহ্যের খাগের কলম। ঐতিহ্য, রীতি বজায় রেখে বাগদেবীর আরাধনায় পুরুলিয়ায় (Purulia) এসেছে প্রায় ১০ লাখ খাগের কলম। কলকাতার বড়বাজার থেকে এই বিপুলসংখ্যক খাগের কলম মজুত করা শুরু হয় ঝাড়খণ্ড ছুঁয়ে থাকা এই জেলায়।  জেলার প্রায় কম বেশি দশকর্মা পাইকারি বিক্রেতার হাত ধরে খুচরো দশকর্মা ভাণ্ডারে সেই সঙ্গে ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী কলম। দোয়াতে লাল রঙা একটি কালি বড়ি ফেলে দুধ ও সামান্য পরিমাণে মধু মিশিয়ে ওই খাগের কলমে লেখা হয়। এবং তা লেখেন স্বয়ং সরস্বতী!

Advertisement

যদিও বসন্ত পঞ্চমীর এই পুজোকে ঘিরে আচার রয়েছে, যেই পঞ্চমী তিথি ছেড়ে যাবে তারপরে স্নান সেরে একটি কলাপাতায় সেই দুধ ও খাগের কলম দিয়ে লিখতে হয়, "ওঁম নমঃ সরস্বতী মাতা নমঃ।" তারপরই কুল খাওয়ার অনুমতি মেলে ছাত্র-ছাত্রীদের। পুরুলিয়া শহরের দশকর্মা ভাণ্ডারের পাইকারি বিক্রেতা নিখিলেশ দাস বলেন, "একটি বাড়িতে যতজন ছাত্র-ছাত্রী থাকে সেই সংখ্যা অনুযায়ী প্রায় প্রত্যেকটি বাড়িতেই এই খাগের কলম যায়। গত বছর আমি একটু কম এনেছিলাম। এবার প্রায় ১ লাখ ওই খাগের কলম এনেছি।" পুরুলিয়ার বিভিন্ন দশকর্মা ভাণ্ডারের পাইকারি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, গতবার প্রায় পাঁচ লাখ মতো ওই কলম এই জেলায় আসে। এবার সেই সংখ্যাটা ১০ লাখ।

একটি খাগের কলম এক টাকা দাম হলেও কলম, লাল কালি বড়ি সেই সঙ্গে মাটির দোয়াত মিলিয়ে দাম ১০ টাকা। দশকর্মা ভাণ্ডারের পাইকারি বিক্রেতা ফাল্গুনী সেন বলেন, "এই খাগের কলমের ঐতিহ্য এখনও মুছে যায়নি। তাই সরস্বতী পুজোয় (Saraswati Puja 2026) এই কলম বাণিজ্য বেশ জমজমাট থাকে।"

এই কলমের সঙ্গে পুরুলিয়া শহরের উপকণ্ঠে থাকা প্রদীপ গ্রাম কোটলয়ে ছোট্ট মাটির দোয়াত বিক্রি হয়। যার এক একটির দাম ২ টাকা। পাইকারি দশকর্মা ভাণ্ডারগুলি ওই মাটির দোয়াতও মাসখানেক আগে থেকে তুলে নেয়। সোমবার থেকেই এই খাগের কলম, দোয়াত, লাল কালি বড়ি বিক্রি চলছে পুরুলিয়ায়। এক একটি বাণ্ডিলে থাকে ১০০টি খাগের কলম।

দশকর্মা ভাণ্ডারের পুরুলিয়া শহরের আরেক পাইকারি বিক্রেতা অশোক নন্দী জানান, "এই খাগের কলমে লিখতে স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে একটা আলাদা উৎসাহ থাকে সেই কারণেই বিক্রি বাটা এত বেশি।" ইতিহাস বলছে, প্রায় ৫ হাজার বছর আগে প্রাচীন মিশরীয়রা প্রথম কলমের ব্যবহার শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় লেখার কোন কাগজ-ই ছিল না। গাছের পাতা, বাকলে লেখা হতো। রাজহাঁসের পালকই ছিল কলম।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement