জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র গোয়ালপোখর। লাঠি, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত পাঁচ মহিলা-সহ কমপক্ষে এগারো। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের মদতে জমির দখল নিয়ে গোলমাল বেঁধেছে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশবাহিনী পৌঁছে উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। জখমদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে উত্তর দিনাজপুরের (Uttar Dinajpur) গোয়ালপোখরের গোয়াগাঁও (১) পঞ্চায়েতের মহম্মদপুর গ্রামের প্রায় ১ একর ৫ শতক জমির মালিকানা নিয়ে অশান্তির সূত্রপাত। গত আট বছর ধরেই বিগত তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের মদতে সেই জমির দখল নিয়ে গোলমাল বলে দাবি। এ দিন সকালে সাত বছর ধরে চলতে থাকা সেই বিবাদ চরম আকার নেয়। দুইপক্ষই ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরের উপর চড়াও হয়। বিবদমান দুই পক্ষই ওই জমি তাঁদের বলে এই দাবি করে সরব হন। সেই জমিস্থলেই দুই পক্ষের বচসা শেষপর্যন্ত ভয়ঙ্কর সংঘর্ষের আকার নেয়। তাতেই রক্তাক্ত হয় দুই পক্ষের কমপক্ষে ১১ জন। খবর পেয়ে গোয়ালপোখর থানার আইসি পিনাকী সরকারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে বলে জানা গিয়েছে।
দু'পক্ষই মালিকানা নিয়ে সরব হয়েছেন। দুই পক্ষই তৃণমূল নেতাদের দাদাগিরি নিয়ে সরব হয়েছেন। জখম সাইদুল ইসলামের দাবি, "প্রায় ৪০ বছর ধরে আমরা জমিতে চাষ করছি। জমির কাগজপত্র সবই আমাদের কাছে আছে। অথচ তারপর বিগত আমলে তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে মস্তান লেলিয়ে জমি ছেড়ে দেওয়া হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। পুলিশকে অনেকবার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। আমাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। এখন নতুন সরকার এসেছি,এর সুবিচার চাই।" অন্যপক্ষের জান্নাতুন নেশার দাবি, "আমরা পাঁচ বোন। প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে এই জমি চাষ করছি। কিন্তু বিগত তৃণমূলের মস্তানবাহিনীর জন্য জমি চাষ করতে পারছি না।" ইসলামপুর পুলিশ সুপার রাকেশ সিং বলেন," ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।"
