shono
Advertisement
Ramayana

সুদূর ফ্রান্সে কৃত্তিবাসী রামায়ণের 'আসল' পুঁথি! ফেরানোর আর্জি রাম ভক্তদের

কৃত্তিবাসের জন্মভিটে নদিয়া জেলার ফুলিয়ায়। সেখানে রয়েছে তাঁর সমাধিস্থল। সমাধিস্থলের পাশেই কৃত্তিবাসের স্মৃতিতে লাইব্রেরি। যেখানে দেশের বিভিন্ন ভাষার রামায়ণ রয়েছে। কিন্তু কৃত্তিবাস যে পুঁথিতে রামায়ণ রচনা করেছিলেন, সেই আসল পুঁথিটি নেই তাঁর নামাঙ্কিত গ্রন্থাগারে।
Published By: Jaba SenPosted: 01:53 PM Jul 29, 2026Updated: 01:53 PM Jul 29, 2026

সুদূর ফ্রান্সে রয়েছে কৃত্তিবাসী রামায়ণের 'আসল' পুঁথি! সেই পুঁথি ফেরানোর আর্জি এবার রাম-ভক্তকুলের। শতাব্দীর পর শতাব্দী পাঠ, পালাগান, কীর্তনে কৃত্তিবাসী রামায়ণ আবর্তিত বাংলায়। তারই এক দুর্লভ সাক্ষ্য আজ দেশের বাইরে। কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার 'জ্ঞান ভারতম মিশন'-এর মাধ্যমে শতাব্দী প্রাচীন পুঁথি, হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি আধুনিক উপায়ে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পুঁথি সংরক্ষণে প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে নির্দেশিকা দিয়েছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে তার কাজও শুরু হয়েছে।

Advertisement

কৃত্তিবাসের জন্মভিটে নদিয়া জেলার ফুলিয়া। সেখানে রয়েছে তাঁর সমাধিস্থল। সমাধিস্থলের পাশেই কৃত্তিবাসের স্মৃতিতে লাইব্রেরি। যেখানে দেশের বিভিন্ন ভাষার রামায়ণ রয়েছে। কিন্তু কৃত্তিবাস যে পুঁথিতে রামায়ণ রচনা করেছিলেন, সেই আসল পুঁথিটি নেই তাঁর নামাঙ্কিত গ্রন্থাগারে। এমনকী, কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারেও নেই। সেই তুলট কাগজে লেখা পুঁথি রয়েছে সুদূর ফ্রান্সের জাতীয় গ্রন্থাগারে।

কীভাবে রামায়ণের পুঁথি পাড়ি দিল ফ্রান্সে? জানা গিয়েছে, স্বাধীনতার আগে চন্দননগর ছিল ফরাসিদের দখলে। ফরাসিদের দখলে থাকার সময় পি সি কডিয়ার নামে একজন ফ্রান্সের শিক্ষাবিদ চন্দননগরে থাকতেন। তিনি নিয়মিত বাংলার সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে ফিল্ড-ওয়ার্ক করতেন। তিনি ঘুরতে ঘুরতে জানতে পারেন, ফুলিয়ায় রয়েছে কৃত্তিবাসী রামায়ণের পুঁথি। নদীপথে ফুলিয়ায় গিয়ে সেই পুঁথিটি সংগ্রহ করেন কডিয়ার। এরপর ফ্রান্সে পাঠিয়ে দেন। সেটা ছিল ১৭৭৬ সাল। তারপর থেকেই ফ্রান্সের জাতীয় গ্রন্থাগারে এই পুঁথিটি রয়েছে। কৃত্তিবাস স্মৃতি গ্রন্থাগারের প্রাক্তন গ্রন্থাগারিক তথা রামায়ণ গবেষক কেশব চক্রবর্তী বলেন, "ফ্রান্সে থাকা পুঁথিটিই কৃত্তিবাসী রামায়ণের আসল। ১৯৯৪-৯৫ সালে পুঁথিটি আনার ব্যাপারে প্রচেষ্টা শুরু করি। কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে যোগাযোগ করা হয়। ওরাই ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে ফ্রান্সে চিঠি দেয়। চিঠিচাপাটির পর ১৯৯৬ সালে ফ্রান্স পুঁথির 'মাইক্রো ফিল্ম' পাঠায় ভারতে। তা এখন সংরক্ষিত রয়েছে জাতীয় গ্রন্থাগারে। সেখান থেকে একটি ফটোকপি আমি নিয়ে আসি এখানে। তবে আসল পুঁথিটি এখনও রয়েছে ফ্রান্সেই।"

পুঁথি বিশেষজ্ঞ তথা বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অরবিন্দ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "পুঁথির শয়ে শয়ে কপি হয়েছে। বাংলাদেশেও রামায়ণের পুঁথি রয়েছে। ফ্রান্সে থাকা রামায়ণের পুঁথি এ দেশে আনা জরুরি। যা নিয়ে গবেষণা হতে পারে। অনেক অজানা ইতিহাস উন্মোচিত হবে।"

ফ্রান্স থেকে আসল পুঁথিটি ফেরানো প্রসঙ্গে শান্তিপুরের বিজেপি বিধায়ক স্বপনকুমার দাস বলেন, "অবশ্যই আসল পুঁথিটি ফ্রান্স থেকে আনা দরকার। সংশ্লিষ্ট বিভাগে আমি জানাব। কৃত্তিবাসী রামায়ণ নিয়ে আমাদের সকলের আবেগ রয়েছে।" কিন্তু ফুটবলার এমবাপের দেশ থেকে ফিরবে কি কৃত্তিবাসের দুর্লভ সাক্ষ্য? উত্তরের অপেক্ষায় বাংলার রাম-ভক্তকুল।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement