shono
Advertisement
TMC Leader Arrested

ময়নাতদন্ত না করেই নাবালিকার দেহ দাহ! পালিয়েও শেষরক্ষা হল না, গ্রেপ্তার অভিষেক-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা

তৃণমূল সরকারের আমলে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে এক নাবালিকার রহস্যমৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু ময়নাতদন্ত না করে ঘটনা ধামাচাপা দিতে দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের তৎকালীন সভাপতি সুব্রত দত্ত।
Published By: Suhrid DasPosted: 02:06 PM Jul 29, 2026Updated: 03:17 PM Jul 29, 2026

তৃণমূল সরকারের আমলে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে এক নাবালিকার রহস্যমৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু ময়নাতদন্ত না করে ঘটনা ধামাচাপা দিতে দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের তৎকালীন সভাপতি সুব্রত দত্ত। রাজ্যে পালাবদলের পর ওই তৃণমূল নেতার নামে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক ছিলেন সুব্রত। তবুও শেষরক্ষা হল না। অসুস্থ বাবাকে বাড়িতে দেখতে এসে গ্রেপ্তার হলেন এই তৃণমূল নেতা (TMC Leader Arrested)। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ওন্দা কেন্দ্র থেকে তিনি তৃণমূলের প্রার্থীও হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ভোটে জিততে পারেননি। ধৃত সুব্রত তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ট বলে দলীয় সূত্রে খবর।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাত্রসায়র এলাকায় এক নাবালিকার রহস্যমৃত্যু হয়েছিল গত মার্চ মাসে। সেই ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে পাত্রসায়র স্টেশন পাড়ার বাসিন্দা রোহিত মল্লিক ও তার মা রুম্পা মল্লিকের বিরুদ্ধে। কিন্তু তৃণমূল আমলে মৃতার পরিবারকে থানায় অভিযোগ জানাতে দেওয়া হয়নি! শুধু তাই নয়, ময়নাতদন্ত না করেই মৃতদেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল! তৃণমূল নেতা সুব্রত ও তাঁর স্ত্রী পূরবী দত্ত প্রভাব খাটিয়ে সমস্ত ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সুব্রত বিষ্ণুপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন জেলা সভাপতি ছিলেন। তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ট বলেও পরিচিত। এদিকে পূরবী দত্ত পাত্রসায়রের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। স্বামী-স্ত্রীর রাজনৈতিক প্রভাব থাকার কারণে বাধ্য হয়ে নাবালিকার পরিবার মুখবন্ধ রাখতে বাধ্য হয়! 

তৃণমূল আমলে মৃতার পরিবারকে থানায় অভিযোগ জানাতে দেওয়া হয়নি! শুধু তাই নয়, ময়নাতদন্ত না করেই মৃতদেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল! তৃণমূল নেতা সুব্রত ও তাঁর স্ত্রী পূরবী দত্ত প্রভাব খাটিয়ে সমস্ত ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

এবার ওন্দা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থীও হয়েছিলেন সুব্রত। তাঁর হয়ে প্রচারও করেছিলেন অভিষেক। কিন্তু ভোটে জিততে পারেননি তিনি। রাজ্যে পালাবদলের পরে ফের ওই নাবালিকার মৃত্যু নিয়ে শোরগোল ছড়ায়। চলতি মাসের শুরুতে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। গত ১১ জুলাই নতুন করে তদন্ত শুরু করে পাত্রসায়র থানার পুলিশ। তদন্তে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় অন্যতম অভিযুক্ত রোহিত মল্লিক ও রুম্পা মল্লিককে। পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের সূত্রে গ্রেপ্তার হন পাত্রসায়রের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূরবী দত্ত মল্লিকও।

পুলিশে অভিযোগ হওয়ার পর থেকেই পলাতক ছিলেন সুব্রত দত্ত। পুলিশ তাঁর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছিল। গতকাল, মঙ্গলবার রাতে অসুস্থ বাবাকে দেখতে বাড়িতে গিয়েছিলেন সুব্রত। পুলিশ সেই খবর জানতে পেরে হানা দেয়। পাকড়াও করা হয় ওই নেতাকে। আজ, বুধবার তাঁকে থানা থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষোভ দেখানো হয়। ডিম হাতে অপেক্ষা করতে দেখা গিয়েছে বিক্ষোভকারীদের। তবে পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় কোনও ঝামেলা হয়নি। বিষ্ণুপুর মহকুমার পুলিশ আধিকারিক অঞ্জলি সুগা বলেন, "নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে মা ও ছেলেকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য সামনে আসে। সেই সূত্রেই পূরবী দত্ত মল্লিক ও পরে সুব্রত দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement