একসময় ওয়ার্ড স্তরের সংগঠন সামলাতেন। এখন বারাসতে বিজেপির প্রথম জয়ের পর জেলা রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছেন। নাম তাঁর সুবীর শীল। গেরুয়া শিবিরের অন্দরেই আলোচনা, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক প্রস্তুতি, বুথভিত্তিক নেটওয়ার্ক তৈরি এবং স্থানীয় ক্ষোভকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর পিছনে সক্রিয় ভূমিকা ছিল তাঁর। সেই কারণেই এখন এলাকার গেরুয়া শিবিরের সংগঠনে অন্যতম যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে উঠে আসছে সুবীরের নাম। তাঁর আরেকটি পরিচয়, বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর ব্যক্তিগত সহায়ক।
তবে রাজনীতিতে বরাবরই অন্তরালে থাকতে পছন্দ করেন সুবীর। বারাসত পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের শিমুলতলার বাসিন্দা সুবীর পেশায় ব্যবসায়ী। তরুণ বয়স থেকেই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও দীর্ঘদিন প্রচারের আলো থেকে দূরেই ছিলেন। প্রথমদিকে ওয়ার্ড সভাপতির দায়িত্ব সামলে স্থানীয় স্তরে সংগঠন গড়ে তোলার কাজ করেছেন। পরে ধীরে ধীরে জেলার সংগঠনের পাশাপাশি রাজ্য নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বৃত্তেও জায়গা করে নেন। বর্তমানে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের ব্যক্তিগত সহায়ক হিসেবেও কাজ করছেন তিনি। বিজেপির একাংশের দাবি, রাজ্য সভাপতি হওয়ার অনেক আগে থেকেই শমীকের অন্যতম বিশ্বস্ত ছায়াসঙ্গী ছিলেন সুবীর। ২০১৪ সালে বসিরহাট দক্ষিণের উপনির্বাচনে শমীক প্রার্থী হওয়ার সময় থেকেই তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।
প্রথমদিকে বারাসত কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে সুবীরের নামও জোরালোভাবে উঠেছিল। কিন্তু তাঁর একদা রাজনৈতিক 'গুরু' শংকর চট্টোপাধ্যায় প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করতেই নিজে সরে দাঁড়িয়ে দলের কাছে শংকরের পক্ষেই সওয়াল করেন সুবীর। প্রার্থী ঘোষণা হতেই কার্যত বারাসতকেই ‘পাখির চোখ’ করে সংগঠনের কাজে নেমে পড়েন তিনি।
শুভেন্দু, শমীকের সঙ্গে একই বিমানে সফর সুবীরের। ছবি: ফেসবুক
বারাসত বরাবরই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। অতীতেও একাধিকবার এই কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেও সফল হয়নি বিজেপি। কিন্তু এবারের ভোটে সেই সমীকরণ বদলেছে। বিজেপি সূত্রের দাবি, ভোটের প্রায় এক বছর আগে থেকেই শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বুথ সংগঠন শক্ত করার কাজ শুরু করেছিলেন সুবীর। নিষ্ক্রিয় কর্মীদের ফের সক্রিয় করা, ছোট ছোট কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকায় উপস্থিতি বাড়ানো এবং স্থানীয় ক্ষোভকে সংগঠিত করার কৌশল নেওয়া হয়। পাশাপাশি রামনবমীর মিছিল, অন্নকূট, বস্ত্র বিতরণ, বিজয়া সম্মিলনী থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান - ধারাবাহিকভাবে এলাকায় সংগঠন বিস্তারের কাজও করা হয়েছে। বিশেষ করে জল জমা, সাফাই, রাস্তার বেহাল অবস্থা, আলো এবং পুরসভার নাগরিক পরিষেবা নিয়ে মানুষের ক্ষোভকে সামনে রেখে প্রচার চালানো হয়েছিল।
নিজের উত্থান নিয়ে বাড়তি প্রচারে আগ্রহী নন তিনি। সুবীরের বক্তব্য, “আমি দলের সাধারণ কর্মী। বারাসত ১৫ বছর বহিরাগত বিধায়ক পেয়েছে। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজনীতির বিরুদ্ধে মানুষ রায় দিয়েছেন। দলকে জেতানোর জন্য আমার যেটুকু ভূমিকা প্রয়োজন ছিল, আমি সেটুকুই করার চেষ্টা করেছি।”
পাশাপাশি শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তুলে ধরা হয়। বিজেপির একাংশের মতে, শহরের সেই জমে থাকা অসন্তোষই শেষ পর্যন্ত ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলেছে। গোটা সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে সুবীরের ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।দলের অন্দর মহলের দাবি, প্রথমদিকে বারাসত কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে সুবীরের নামও জোরালোভাবে উঠেছিল। কিন্তু তাঁর একদা রাজনৈতিক 'গুরু' শংকর চট্টোপাধ্যায় প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করতেই নিজে সরে দাঁড়িয়ে দলের কাছে শংকরের পক্ষেই সওয়াল করেন সুবীর। প্রার্থী ঘোষণা হতেই কার্যত বারাসতকেই ‘পাখির চোখ’ করে সংগঠনের কাজে নেমে পড়েন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রোড শোতেও সামনের সারিতে দেখা যায় তাঁকে।
স্বাধীনতার পর এই প্রথম বারাসত কেন্দ্রে জয় পেয়েছে বিজেপি। তৃণমূলের সব্যসাচী দত্তকে পরাজিত করেছেন শংকর চট্টোপাধ্যায়। আর গেরুয়া শিবিরের এই সাফল্যের পর জেলা রাজনীতিতে সুবীরের গুরুত্ব যে অনেকটাই বেড়েছে, তা কার্যত মেনে নিচ্ছে দলের অন্দর মহলও। যদিও নিজের উত্থান নিয়ে বাড়তি প্রচারে আগ্রহী নন তিনি। সুবীরের বক্তব্য, “আমি দলের সাধারণ কর্মী। বারাসত ১৫ বছর বহিরাগত বিধায়ক পেয়েছে। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজনীতির বিরুদ্ধে মানুষ রায় দিয়েছেন। দলকে জেতানোর জন্য আমার যেটুকু ভূমিকা প্রয়োজন ছিল, আমি সেটুকুই করার চেষ্টা করেছি।”
