আর ধাম নয়, দিঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার থেকে আর ধাম নয়, লেখা হবে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। তবে বিগ্রহ যেখানে আছেন সেটা মন্দির হিসাবেই উল্লেখ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীকে এহেন সিদ্ধান্তকে ইতিমধ্যে স্বাগত জানিয়েছে ইসকন। এবার এই ইস্যুতে শুভেন্দু অধিকারীর পাশে দাঁড়িয়ে কার্যত পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন পুরীর প্রধান পুরোহিত রাজেশ দৈতাপতি। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা পুরোহিত ছিলেন তিনি। রাজেশ দৈতাপতির দাবি, বেশ কিছু ভুলের কথা জানানো হলেও তা শোনা হয়নি।
বুধবার রাজেশ দৈতাপতি বলেন, ''আমি দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেছি। তবে কয়েকটি ভুল ছিল। তখনই অমি বলেছিলাম। কিন্তু আমার কথা শোনা হয়নি।'' তাঁর কথায়, ''প্রথমে পাথরের জগন্নাথ মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে জানাই। তারপরেই নিমকাঠের মূর্তি বানানো হয়। পাশাপাশি "জগন্নাথ ধাম" নামটি বাদ দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কারণ, চার ধামের অন্যতম ধাম হল 'পুরীর জগন্নাথ ধাম'। তারপরেও ধাম শব্দটি রেখে দেওয়া হয়। যা নিয়ে আমার মনের মধ্যেও একটা ক্ষোভ ছিল। তবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে "ধাম" শব্দটি বাদ দিয়ে সনাতন ধর্মের মানুষের আবেগ রক্ষা করেছেন, তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমি প্রভু জগন্নাথদেবের কাছে প্রার্থনা ঈশ্বর যাতে শুভেন্দু অধিকারী সফলতার সঙ্গে রাজ্য পরিচালনা করতে পারেন।''
তাঁর কথায়, ''প্রথমে পাথরের জগন্নাথ মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে জানাই। তারপরেই নিমকাঠের মূর্তি বানানো হয়। পাশাপাশি "জগন্নাথ ধাম" নামটি বাদ দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কারণ, চার ধামের অন্যতম ধাম হল 'পুরীর জগন্নাথ ধাম'। তারপরেও ধাম শব্দটি রেখে দেওয়া হয়। যা নিয়ে আমার মনের মধ্যেও একটা ক্ষোভ ছিল।''
এখানেই শেষ নয়, এদিন রাজেশ দৈতাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আরও বলেন, ''আগেই বলেছিলাম মন্দিরে জগন্নাথদর্শনে হিন্দু ধর্মের মানুষ ছাড়া অন্য কোনও ধর্মের মানুষ যাতে মন্দিরে প্রবেশ না করে। এজন্য বোর্ড লাগানোর কথা জানিয়েছিলাম।'' কিন্তু তাও শোনা হয়নি বলে দাবি জগন্নাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা পুরোহিতের। এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তাঁর আবেদন, আমি চাই লক্ষ লক্ষ জগন্নাথদেবের ভক্ত মন্দিরে আসছেন, তাই মুখ্যমন্ত্রী যেন দিঘার জগন্নাথ মন্দির কে মন্দিরের মত পরিচালনা করেন।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেই এদিন দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় 'জগন্নাথ ধাম' নাম। তার পরিবর্তে সেখানে লাগানো হয়েছে 'শ্রী শ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টার' লেখা নতুন ব্যানার। মঙ্গলবারই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুরীর সমকক্ষ হিসেবে 'ধাম' শব্দের ব্যবহার ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করতে পারে, তাই এই নামকরণ পরিবর্তন করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসন ও জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্ট কমিটির তরফে এই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুধবার রামনগর বিধানসভার বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল এবং কলকাতা ইসকনের সহ-সভাপতি তথা দিঘা জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রাধারমণ দাসের উপস্থিতিতে মন্দিরের প্রধান ফটক থেকে পুরনো ব্যানারটি সরিয়ে নতুন ব্যানারটি প্রতিস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি জগন্নাথ মন্দিরের মূল গেটের সামনে লেখা "জগন্নাথ ধাম" ও সরিয়ে দেওয়া হয়।
দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় 'জগন্নাথ ধাম' নাম। তার পরিবর্তে সেখানে লাগানো হয়েছে 'শ্রী শ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টার' লেখা নতুন ব্যানার।
মন্দির থেকে সরল ধাম শব্দ।
এই বিষয়ে বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলেন, সনাতন ধর্মের ঐতিহ্য ও পুরীর শ্রীক্ষেত্র ধামের মাহাত্ম্য অক্ষুণ্ণ রাখতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ মেনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইসকন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভাবে এই নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। প্রশাসনের এই তড়িৎ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পুণ্যার্থীদের একাংশ।
