নিজস্ব সংবাদদাতা, বনগাঁ: কথায় বলে, পেটে খেলে পিঠে সয়। আর খাওয়ার জিনিসটি যদি হয় মনভোলানো রসগোল্লা? তাও একেবারে গরমাগরম?
তা হলে যে কী হয়, সেটা হাতেনাতে দেখা গেল বুধবার রাতে, উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁয়। নিশুতি রাতে বনগাঁ থানার কালোপুর বাজারে এক মিষ্টির দোকানের ক্যাশবাক্স সাফ করতে এসে মোহময়ী রসগোল্লার উষ্ণ হাতছানিতে ফেঁসে গিয়ে আম, ছালা, দুইই খোয়াল দুই চোর। পুলিশের হাতে ধরা পড়ে আপাতত তারা শ্রীঘরে। কী ভাবে? পুলিশসূত্রের খবর, বুধবার রাত আড়াইটে নাগাদ যশোর রোডে টহলদার পুলিশকর্মীদের নজরে পড়ে, দুটি ছেলে পড়ি কি মরি দৌড়চ্ছে। হাতে নাইলনের ব্যাগ। বিলক্ষণ সন্দেহজনক! দু’জনকে সঙ্গে সঙ্গে পাকড়াও করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। এত রাতে কোথা থেকে? ব্যাগে কী? পুলিশ দেখে পালাচ্ছিলে কেন?
[এক পরীক্ষায় দু’রকম প্রশ্নপত্র, বিভ্রান্তিতে পরীক্ষা ভণ্ডুল সোনারপুরে]
গোড়ায় আমতা আমতা। কিন্তু পুলিশবাবুদের ধমকচমকের সামনে শেষমেশ গড়গড়িয়ে সব কিছু উগরে দিল দু’জনই। জানায়, তারা চোর। কালোপুর বাজারে মিষ্টির দোকানে ঢুকেছিল টাকা চুরি করতে, পিছনের জানলা ভেঙে। ক্যাশবাক্স ভেঙে টাকাকড়ি হাতিয়ে নিতে দেরি হয়নি। চোরাই নোটপত্র নাইলনের ব্যাগে পুরে বাঁধাছাঁদাও সারা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কাজ সেরে পালানোর আগের মুহূর্তে চোখ আটকে যায় ভিয়েনের উনুনের কড়াইয়ে ভাসতে থাকা রসে টইটম্বুর সাদা সাদা গোল্লার দিকে। সঙ্গে সঙ্গে জিভে জল। টাকার ব্যাগ পাশে রেখে কড়াইয়ের পাশে সাপটে বসে পড়ে দুই মূর্তিমান। ভরপেট মিষ্টি খেয়ে ঢেকুর তুলতে তুলতে যখন বেরোয়, তখন খেয়াল হয়, অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার সমূহ সম্ভাবনা। তাই পাঁইপাঁই দৌড় দিয়েছিল।
[ইন্দো-বাংলা সীমান্তে ফাঁস বড়সড় অনুপ্রবেশ চক্র, জঙ্গিযোগের আশঙ্কা]
তাতেও অবশ্য শেষরক্ষা হয়নি। বৃত্তান্ত শুনে পুলিশও থ। দু’জনকে আটকে রেখে তারা খবর পাঠায় কালোপুর বাজারের সেই মিষ্টির দোকানের মালিক উৎপল ঘোষকে। উৎপলবাবু হন্তদন্ত হয়ে এসে দোকান খুলে দেখেন, নগদ প্রায় তিরিশ হাজার টাকা গায়েব। কয়েকশো টাকার মিষ্টিও হাপিশ! দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে, গুছিয়ে মিষ্টি খাচ্ছে দুই চোর। যা দেখে উৎপলবাবু বলছেন, টাকা যদিও বা ফেরত পাওয়া যায়, মিষ্টি তো চোরের পেটে! আর তস্করযুগলের আক্ষেপ, সব কাজ এত সুন্দর সেরে এনেও শেষে কিনা পা কাটল গরম রসগোল্লায়!
The post কড়াইয়ে গরম রসগোল্লা, পেটপুরে খেল চোর appeared first on Sangbad Pratidin.
