shono
Advertisement

বয়স ৪০ ছুঁয়েছে, তাও কেন সবসময় উলঙ্গ থাকেন এই যুবক?

বাস্তবের এই উলঙ্গ রাজার কাহিনি আপনাকে অবাক করবেই। The post বয়স ৪০ ছুঁয়েছে, তাও কেন সবসময় উলঙ্গ থাকেন এই যুবক? appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 05:54 PM Jun 27, 2017Updated: 12:24 PM Jun 27, 2017

মৃন্ময় লাহিড়ী, কোচবিহার: ‘রাজা, তোর কাপড় কোথায়?’

Advertisement

নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘উলঙ্গ রাজা’ কবিতার শেষ লাইন৷ রাজা এখানে অদৃশ্য রাষ্ট্রশক্তি৷ ছোট্ট শিশুর মুখ দিয়ে সেই রাজার বিরু‌দ্ধে কবির কটাক্ষ কবিতার পরতে পরতে৷ তাঁর কলমে, ‘সবাই দেখছে যে রাজা উলঙ্গ, তবু কারও মনে সংস্কার, কারও ভয়’৷ কিন্ত্ত এমনই এক উলঙ্গ রাজার সন্ধান মিলেছে, যিনি রক্তমাংসের৷ যাকে ছুঁয়ে দেখা যায়৷ যাকে দেখে কেউ হাততালি দেয় না৷ নেই কোনও সংস্কার ও ভয়৷ এমনকী কেউ প্রশ্ন করে না—রাজা, তোর কাপড় কোথায়?

নাম সুবল বর্মন৷ বয়স চল্লিশ৷ সাকিন, কোচবিহারের চান্দামারি পঞ্চায়েতের রাজাপুর। এলাকায় ‘উলঙ্গ সুবল’ নামে বেশি পরিচিত৷ অনেকেই বলেন, ‘উলঙ্গ রাজা’৷ কেন এমন নামকরণ হবে না? জন্মের পর থেকে চল্লিশেও শরীরে এক টুকরো সুতো ওঠেনি যে! শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা উলঙ্গ থাকেন সুবল৷ গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে এসবই স্বাভাবিক৷ উলঙ্গ অবস্থায় কাজে যান এই রাজা৷ বাজার করেন৷ কখনও বাইকে ছুটে বেড়ান৷ আবার কখনও সাইকেল চালান৷ চা দোকানে আড্ডা দেন আর পাঁচজনের মতোই৷ কেউ তাঁকে নিয়ে কৌতুক করে না৷

[এই শহরের স্টেশনে হেঁটে চলেছে ছায়ামূর্তি! ছড়াল আতঙ্ক]

এক সময় স্থানীয় দাদারা জামা— প্যান্টে অভ্যস্ত করতে কম চেষ্টা করেননি৷ কিন্তু সুবলের জেদের কাছে হার মানতে হয়েছে প্রত্যেককে৷ কেন এমনটা? সুবল নিজেই জানালেন, ছোটবেলা থেকেই শরীরে সুতোর কিছু সহ্য হয় না৷ চেষ্টা করেছেন৷ কিন্তু জামা—প্যান্ট পরলে কাঁপিয়ে জ্বর আসে৷ তাই হাল ছেড়ে ঠিক করেছেন উলঙ্গ থাকবেন৷ এখন অভ্যাসে দাঁড়িয়েছে৷ শুধু কি জামা-প্যাণ্ট! বিছানাতেও নেই চাদর৷ তক্তার উপরে পলিথিন পাতা৷ রাতে বালিশে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি৷ মাঘের শীতে যখন প্রত্যেকে কাবু হয়ে ঠকঠক করে কাঁপতে শুরু করে৷ জ্যাকেট, সোয়েটার, চাদরেও কাজ হয় না তখনও সুবল দিব্যি উলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়ান৷ চাদর, কম্বল কিছুই দরকার হয় না এই রাজার৷

কষ্ট হয় না? প্রশ্ন শুনে হাসেন সুবল৷ বলেন, “সবই অভ্যাস বুঝলেন! আমার কোনও সমস্যা হয় না৷ অনেকে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে৷ লজ্জা পাই না৷ এভাবেই তো জন্মেছি৷” কিন্ত্ত দুঃখ নেহাত কম নেই৷ উলঙ্গ থাকার জন্য স্কুলে যাওয়া হয়নি তাঁর৷ বড় হয়ে বয়স্ক শিক্ষার ‘নাইট স্কুল’-এ কয়েকদিন গিয়েছিলেন৷ সেখানেই যতটুকু শিখেছেন৷ ইংরেজি, বাংলা লিখতে ও পড়তে পারেন৷ নিজে লেখাপড়া করতে পারেননি এই খেদ মেটাতে পড়শি এক ছেলের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন৷ সন্তানসম গোকুল বর্মন এবার মাধ্যমিক পাস করেছে৷ অনেক দূর পড়াতে চান গোকুলকে৷ সুবল বলেন, “আমার হয়নি৷ এই ছেলেটার সমস্ত স্বপ্ন পূরণ করব৷”

সামান্য কিছু জমি থাকলেও আগে কলমিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি৷ উলঙ্গ অবস্থায় কত বাড়িতে কলের কাজ করেছেন৷ কত জমিতে শ্যালো বসিয়েছেন তার হিসেব নেই৷ কেউ তাঁকে ঘিরে হইচই করেনি৷ এমনকী মহিলারাও নয়৷ এখন কল মিস্ত্রির কাজ ছেড়ে চান্দামারি মাছ বাজারের পিছনে একটি স্টল নিয়ে রান্নার গ্যাস এবং ওভেন ভাড়ার দোকান খুলেছেন৷ দিনের বেশি সময় দোকানেই থাকেন৷ কখনও খেতে সবজি চাষের কাজ করেন৷ তিনি জানিয়েছেন, এবার আট বিঘে জমির মধ্যে ছয় বিঘেতে পাট, পটল এবং কচু চাষ করেছেন৷ মাত্র দেড় বছর বয়সে বাবা লক্ষ্মীকান্ত বর্মনকে হারিয়েছেন সুবল৷ মা রাজোবালাদেবী প্রয়াত হয়েছেন ষোল বছর বয়সে৷ এরপর থেকে একা। বাড়িতে দু’বেলা নিজেই রান্না করেন৷ যেদিন শরীর ভাল থাকে না পড়শিদের বাজার করে দেন৷ ওরাই খাবারের ব্যবস্থা করে৷ বিয়ে করেননি কেন? প্রশ্ন শুনে হোহো করে হাসিতে ফেটে পড়েন বছর চল্লিশের যুবক৷ বলেন, “এই ন্যাংটো রাজাকে কে মেয়ে দেবে বলুন তো? তাছাড়া বিয়ের পরে অনেক দায়িত্ব থাকে৷ ওসব আমার পক্ষে পালন করা সম্ভব নয়৷ তাই ঠিক করেছি একাই জীবন কাটিয়ে দেব৷” বৃদ্ধ হলে কী করবেন? তাঁর কথায়, “কেন পড়শি ও বন্ধুরা তো আছে৷ তাই ভয় করি না৷”

[রাতের অন্ধকারে কোন আতঙ্ক গ্রাস করে এই হাইওয়েকে?]

ছেলেবেলার নিজের হাডুডু খেলার দল ছিল৷ অনেক জায়গায় খেলতে গিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন৷ এছাড়াও ছিল কুষাণ গানের দল৷ বন্ধুদের সঙ্গে গান গেয়ে বেড়াতেন৷ আজও সেই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মজে অবসর সময় কাটে৷ শহরে যান না? এবার কিছুটা অবাক হলেন উলঙ্গ রাজা৷ উল্টে প্রশ্ন করলেন, “কেন যাব না?” আপনাকে দেখে কেউ কিছু বলে না? সাবলীল উত্তর, “শহরের লোকজনের এত সময় নেই যে আমাকে নিয়ে পড়ে থাকবে৷ আমি দোকানের মালপত্র আনতে যাই৷ কাজ সেরে ফিরে আসি৷ কোনও সমস্যা হয় না৷ এছাড়াও শালবাড়ি, মোরোঙ্গাবাড়ি, গোসানিবাড়ি এলাকায় আত্মীয়দের বাড়িতে যাই৷”

সুবলবাবুর বন্ধু সন্তোষ দাস জানিয়েছেন, এক সময় জামা, প্যান্ট পরানোর অনেক চেষ্টা হয়৷ কম অত্যাচার চলেনি৷ নিরুপায় হয়ে তিনদিন নদীতে লুকিয়ে ছিল৷ প্রতিবেশী নৃপেন বর্মনের কথায়, “সুবল শিশুর মতো৷” সুমিত্র বর্মন, অনিমা বর্মনের মতো বধূরা জানিয়েছেন, বিয়ের পর বাড়ির পাশে উলঙ্গ ছেলেকে দেখে অস্বস্তি হত৷ লজ্জা লাগত৷ এখন কোনও সমস্যা হয় না৷ আর দশজনের মতোই ওকে মনে হয়৷

The post বয়স ৪০ ছুঁয়েছে, তাও কেন সবসময় উলঙ্গ থাকেন এই যুবক? appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার