একজনকে বিয়ে করব। অন্য জনকে সারারাত নাচাব ৷ নাচনিয়া এরা! ট্রেনের ভেন্ডার কামরায় ওঠায় তরুণী দুই নিত্য শিল্পীকে অশালীন আক্রমণের অভিযোগ টিকিট পরিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ও টিকিট পরীক্ষকের শাস্তির দাবিতে শনিবার বিকেলে বনগাঁ জিআরপি থানার সামনে শতাধিক নৃত্যশিল্পী বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার দুপুরে। গোবরডাঙার বাসিন্দা ঋত্বিকা সাহা ও অশ্রী সাহা রানাঘাট যাওয়ার জন্য গোবরডাঙ্গা স্টেশন থেকে টিকিট কেটে ট্রেনে ওঠেন। বনগাঁ থেকে রানাঘাট লোকাল ধরে রানাঘাট যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। অসাবধানতাবশত তাঁরা ভেন্ডার কম্পার্টমেন্টে উঠে পড়েন। বনগাঁ স্টেশনে নামার পর কর্তব্যরত এক টিকিট পরীক্ষক তাঁদের আটক করেন। ভেন্ডার কম্পার্টমেন্টে ভ্রমণের অভিযোগে আড়াই হাজার টাকা জরিমানা দাবি করেন। সেই সময় সঙ্গে এত টাকা না থাকায় দুই ছাত্রী ভয়ে তাঁদের মায়েদের ফোন করেন। কিন্তু সেখানেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ওই টিকিট পরীক্ষক ফোনে তাঁদের অভিভাবকদের সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেন। এমনকী নাচের ক্লাসে দেরি হওয়ায় শিক্ষিকা ফোন করে বিষয়টি জানতে চাইলে তাঁকেও অশালীন ও আপত্তিকর ভাষায় অপমান করা হয় বলেও অভিযোগ।
ঋত্বিকা সাহা ও অশ্রী সাহা বলেন, "টিকিট পরীক্ষক একটি ঘরে নিয়ে আমাদের বসিয়ে রাখে। তিনি একাই ছিলেন। মা টাকা জোগাড় করে এসে পৌঁছতে দেরি হবে বলতেই টিকিট কালেক্টর বলেন একজনকে বিয়ে করব। আর একজনকে সারারাত নাচাব ৷ নাচনিয়া এরা ৷ আমরা ওনার অশালীন মন্তব্য ভিডিও রেকর্ড করেছিলাম। বেশ কিছু রেকর্ড ডিলিট করিয়ে দেয় ৷"
এই ঘটনার প্রতিবাদে অভিভাবক ও নৃত্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষক-শিক্ষিকারা এ দিন বনগাঁ জিআরপি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত টিকিট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে কড়া ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। শিক্ষক মৃন্ময় বলেন, "নিত্য শিল্পীকে এভাবে অপমান। আমরা ওনার শাস্তি চাই ৷ অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে বনগাঁ জিআরপি।
