দিনদশেক আগেই বাঘের মুখ থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার জি-প্লটের সত্যদাসপুরের বাসিন্দা বছর ৩২ এর এক মৎস্যজীবী বনু ভক্তা! কিন্তু এবার বাঘের মুখ থেকে আর বেঁচে ফেরা হল না পাথরপ্রতিমারই ৩৬ বছরের অন্য এক মৎস্যজীবী জীবন ভক্তার। সুন্দরবনের জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে স্ত্রীর সামনে থেকেই ওই মৎস্যজীবীকে তুলে নিয়ে গেল দক্ষিণরায়। মৃত ওই মৎস্যজীবীর রক্তাক্ত দেহ আজ শনিবার উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় পাথরপ্রতিমায়। দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে।
বৃহস্পতিবার পাথরপ্রতিমার রামগঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের ইন্দ্রপ্রস্থ আদিবাসী কলোনি এলাকা থেকে ১০-১১ জনের মৎস্যজীবীর একটি দল নৌকা নিয়ে কাঁকড়া ধরতে বের হন। সুন্দরবনের কলস দ্বীপের জঙ্গল সংলগ্ন পশ্চিম বাদায় কাঁকড়া ধরার কাজে যান তাঁরা। ওই দলে ছিলেন জীবন ভক্তা ও তাঁর স্ত্রী দুর্গা। পাথরপ্রতিমার জি-প্লটের সত্যদাসপুরের বাসিন্দা জীবন গত চারবছর ধরে রামগঙ্গা পঞ্চায়েতের ইন্দ্রপ্রস্থে আদিবাসী কলোনিতে শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রী, দুই সন্তান ও শাশুড়ির সঙ্গে একসঙ্গে থাকতেন। পরিবারে লেগেই ছিল দৈনিক অনটন। সে কারণেই ওই দম্পতি জীবন ও দুর্গা তাঁদের দুই নাবালক সন্তানকে দিদিমা সারি ভক্তার কাছে রেখে সুন্দরবনের জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে বেরোতেন প্রায় সময়ই। কিন্তু এমন যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে তা কল্পনারও বাইরে ছিল তাঁদের।
দুর্গার মা সারি ভক্তা জানান, "নিত্য অভাবের তাড়নায় প্রায় প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও মেয়ে-জামাই সন্তানদের আমার কাছে রেখে কলস দ্বীপের জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিল। শুক্রবার ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে আলাদা আলাদা জায়গায় মৎস্যজীবীরা কাঁকড়া ধরছিল। জীবন ও দুর্গাও দু'জনে মিলে কাঁকড়া ধরছিল। আচমকাই সেখানে হাজির হয় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। জামাইকে মুখে নিয়ে বনের মধ্যে চলে যায় বাঘটি। চিৎকার করতে থাকে দুর্গা। সেই চিৎকারে আশপাশে থাকা অন্য মৎস্যজীবীদের টনক নড়ে। কিন্তু ততক্ষণে জীবনকে মুখে তুলে নিয়ে বনে ঢুকে পড়েছে বাঘ।''
মৃত মৎস্যজীবী জীবন ভক্তা।
সারি ভক্তা বলেন, ''দিনভর বহু খোঁজাখুঁজি করেও জামাইয়ের কোনও হদিশ মেলেনি। শনিবার ভোরে জঙ্গলের মধ্যে থেকে জামাইয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে দুপুরের পর পাথরপ্রতিমা ঘাটে নিয়ে আসে মৎস্যজীবীরা।" এরপরেই কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার। জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুরে পাথরপ্রতিমা ঘাটে জীবনের রক্তাক্ত দেহ আনা হলে পুলিশ দেহটি কাকদ্বীপ হাসপাতালে ময়নাতদন্তে পাঠায়। মৃত মৎস্যজীবীর পরিবার ও প্রতিবেশীরা মৃতের স্ত্রী, শাশুড়ি ও নাবালক দুই সন্তানের বেঁচে থাকার জন্য প্রশাসন ও সরকারের সহযোগিতা প্রার্থনা করেছেন।
