ফের চর্চায় বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। সম্প্রতি পৈলানে তাঁর প্রাসাদোপম বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। এবার ৩০০-৪০০ কোটি টাকার মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে। বিষ্ণুপুরের সারদা গার্ডেন এলাকা থেকে এই মাটি কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি অভিযোগ, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দিলীপ এই কাজ করেছেন। এই নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় এফআইআর দায়ের করেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)।
জানা গিয়েছে, সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি মামলা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তোলপাড়ের পর বিষ্ণুপুরের সারদা গার্ডেনের সম্পত্তি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাজেয়াপ্ত করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। বাজেয়াপ্ত হওয়া সেই সারদা গার্ডেন থেকেই লাগাতার মাটি চুরি করা হত বলে অভিযোগ। অভিষেকের নির্দেশে তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল ও তাঁর অনুগামীরা এপর্যন্ত প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার মাটি চুরি করে বিক্রি করেছেন বলে দাবি বিজেপি নেতার। তাঁর আরও অভিযোগ, মাটি চুরির সেই টাকা দিলীপ মণ্ডলের হাত ঘুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছত।
বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি থেকে এভাবে মাটি কেটে বিক্রি করে দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ বলে জানান বিজেপি নেতা অভিজিৎ। তিনি বলেন, বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের পাশাপাশি এই মাটি কেলেঙ্কারির সঙ্গে আর যাঁরা যাঁরা যুক্ত তাঁদের কাউকেই ছাড়া হবে না। এই নিয়ে দিলীপ-সহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে তিনি বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিজেপি নেতার এফআইআরের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। উল্লেখ্য, বিজেপি নেতা অভিজিৎ ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপরীতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর সমাজমাধ্যমে তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে তাঁকে কার্যত হুমকি দিতে দেখা যায়। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই দিলীপের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়। এই মামলার তদন্তে নেমে গত ১৪ মে, সকালে দিলীপ মণ্ডলের পৈলানের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ ও ব়্যাফ। বাড়িতে ঢুকে তৃণমূল বিধায়কের বিলাসবহুল জীবনযাপন দেখে তাজ্জব পুলিশ কর্মীরা। ওই বাড়িতে রয়েছে একাধিক দামী গাড়ি, সুইমিং পুল, দোলনা সহ কাঠের আসবাবপত্র। এছাড়াও বাড়িতে একটি গুহাও রয়েছে বলে জানা যায়। ওই তল্লাশি অভিযানের পর থেকেই বেপাত্তা বিধায়ক। সম্প্রতি দিলীপের ছেলে অর্ঘ্য মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁকেও যে কোনও মুহূর্তে গ্রেপ্তার করা হতে পারে এই আশঙ্কায় কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন দিলীপ। এই আবহে বিধায়কের বিরুদ্ধে থানায় নতুন একটি মামলা দায়ের হল।
