বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের 'লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের সুবিধা পেতেন অন্তত ৩০ লক্ষ 'ভুয়ো' প্রাপক! বুধবার রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প 'অন্নপূর্ণা যোজনা'র ফর্ম প্রকাশ করতে গিয়ে এই অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রীতিমতো তথ্য-পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি সাংবাদিক বৈঠকে দেখিয়েছেন, কীভাবে কারচুপি করে পুরুষরাও মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট প্রকল্পের টাকা পেতেন। তাঁর সেই অভিযোগের পর বুধবার রাতেই ভুয়ো প্রাপক বহরমপুরের রাকিবুল শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হল চন্দ্রকোনার 'লক্ষ্মী ছেলে' তথা তৃণমূল নেতা উত্তমকুমার সাউ।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা এক নম্বর ব্লকের মনোহরপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের মনোহরপুর এলাকা। সোমবার এখানকার বিজেপি কর্মীরা অভিযোগ তুলেছিলেন, স্থানীয় তৃণমূল নেতা উত্তমকুমার সাউ পেশায় একজন ঠিকা কর্মী। মহিলাদের জন্য পূর্বতন তৃণমূল সরকার যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু করেছিল, তার প্রাপক তালিকায় উত্তমের নাম! এনিয়ে তাঁর দাবি, তিনিও জানতেন না যে নিজের নাম লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার প্রাপকের তালিকায় নথিভুক্ত হয়ে আছে। কয়েকদিন আগেই বিষয়টি নজরে এসেছে। উত্তম সাউয়ের কথায়, ‘‘আমি স্ত্রীর জন্য আবেদন করেছিলাম। নাম আমার থাকলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা ফোন নম্বর কিন্তু স্ত্রীর। তাঁর অ্যাকাউন্টেই টাকা ঢোকে। এখন নামটা আমার কীভাবে হল, বুঝতে পারছি না। কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা হবে হয়ত। তবে এই সমস্যার সমাধানের জন্য আমি গ্রাম পঞ্চায়েতে লিখিত আবেদন জানাব। তারপর দেখা যাক কী হয়।''
উত্তম সাউ যা-ই বলুন, প্রাপকের তালিকায় নাম তো তাঁরই। যা পুরোপুরি বেআইনি। আর তাই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশমতো তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন। এনিয়ে জেলা পুলিশ আধিকারিক পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, ‘‘সোশাল মিডিয়ায় একটা অভিযোগ পেয়েছিলাম যে চন্দ্রকোনা থানা এলাকার একজন পুরুষের নামে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ঢুকছে। আমরা তদন্তে নেমে দেখলাম, ২০২২ সাল থেকে উত্তম সাউয়ের নামে লক্ষ্ণীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকেছে। যদিও তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়া। কিন্তু সুবিধাভোগী হিসেবে পুরুষের নাম। আমরা আজ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছি, তিনটি আলাদা অপরাধে মামলা দায়ের হয়েছে।''
