এবার তৃণমূলের হাতছাড়া জঙ্গিপুর পুরসভাও (Jangipur Municipality)! অপসারিত পুরপ্রধান মফিজুল ইসলাম। গত কয়েকদিন আগেই ভাইস চেয়ারম্যান সন্তোষ চৌধুরীর নেতৃত্বে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন ১১ জন কাউন্সিলর। মহকুমাশাসকের দপ্তরে জমা পড়ে সেই প্রস্তাব। সেই মতো আজ, সোমবার বৈঠক ডাকা হয়। সেখানেই চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলামকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেন ১৯ জন 'বিদ্রোহী' কাউন্সিলর। যদিও এহেন ভোটাভুটির আগেই চেয়ারম্যান পদ থেকে তিনি ইস্তফা দেন বলে খবর। এরফলে জঙ্গিপুর পুরসভায় পুর বোর্ড ভেঙে গেল। সূত্রের খবর, আগামী নভেম্বরেই পুরসভাগুলিতে নির্বাচন হতে পারে। ফলত জঙ্গিপুর পুরসভায় প্রশাসক বসানো হতে পারে বলে জল্পনা।
ভাইস চেয়ারম্যান সন্তোষ চৌধুরী বলেন, ''আমরা সবাই মিলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলাম। আজ ভোটাভুটি ছিল। সবাই চেয়ারম্যানের অপসারণের পক্ষেই ভোট দেন।''
তৃণমূল পরিচালিত জঙ্গিপুর পুরসভায় ২১টি আসন ছিল। নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে ১৫ জন কাউন্সিলর জয়ী হন। কংগ্রেস পায় ২টি আসন, বিজেপি ১টি, সিপিএম ৩টি। পরে বিরোধী দল থেকে একজন তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। বোর্ড গঠন করে তৃণমূল। চেয়ারম্যান হন মফিজুল ইসলাম। ভাইস চেয়ারম্যান হন সন্তোষ চৌধুরী। কিন্তু চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে সরব হন ভাইস চেয়ারম্যান সন্তোষ চৌধুরী। আনা হয় অনাস্থাও। আজ, সোমবার সভায় মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভোট দেন তৃণমূলের ১৫ জন কাউন্সিলর, সিপিএমের ৩ জন এবং কংগ্রেসের ১ জন। বিজেপির কোনও প্রতিনিধি এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। এরপরই চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারিত হন মফিজুল।
এরপর ভাইস চেয়ারম্যান সন্তোষ চৌধুরী বলেন, ''আমরা সবাই মিলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলাম। আজ ভোটাভুটি ছিল। সবাই চেয়ারম্যানের অপসারণের পক্ষেই ভোট দেন।'' তাঁর কথায়, নিয়ম অনুযায়ী আমরা নতুন করে বোর্ড গঠনের জন্য আবেদন জানাব। অন্যদিকে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ প্রসঙ্গে সন্তোষ চৌধুরী জানান, অনেকদিন ধরেই চেয়ারম্যান পদ থেকে মফিজুল ইসলাম পদত্যাগ করবেন বলে শুনছিলাম। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁর পদত্যাগ পত্র পুরসভায় আসেনি। বলে রাখা প্রয়োজন, রাজ্যে পালাবদলের পরই কলকাতা পুরসভা-সহ রাজ্যের পুরসভাগুলিতে দেখা দেয় অচলাবস্থা। এবার সেই তালিকায় জঙ্গিপুর পুরসভাও।
