shono
Advertisement
IIT Kharagpur

বাসন ফেরি করেন বাবা, আর্থিক অনটনকে জয় করে আইআইটিতে গবেষণার সুযোগ বাংলার যুবকের

গত ২৩ জুলাই খড়গপুর আইআইটিতে ভর্তি হতে গেছিলেন। সেই সময় তাঁর বাবা এবং মা দু'জনেই তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
Published By: Kousik SinhaPosted: 01:37 PM Jul 27, 2026Updated: 03:15 PM Jul 27, 2026

পাড়ায় পাড়ায় বাসনপত্র ফেরি করেন বাবা। আর তাতেই চলে সংসার। প্রবল আর্থিক অনটন। কিন্তু তাঁর ইচ্ছাশক্তিকে কখনও দুর্বল হতে দেননি। বরং কঠিন লড়াইকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছেন। আর সেটাই এনে দিয়েছে সাফল্য! সেই পরিবারেরই ছেলে দেবকুমার সিংহ এবার খড়গপুর আইআইটির 'সেন্টার ফর রুরাল ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেটিভসাসটেইনেবল টেকনোলজি' গবেষণার (সিআরডিআইএসটি)-এ সুযোগ পেয়েছেন। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি ব্লকের প্রত্যন্ত জাড়দা গ্রামের ২৫ বছরের যুবক দেবকুমার সিংহ। গত ২৩ জুলাই বাবা লক্ষ্মীকান্ত সিংহ ও মা রিনা সিংহকে সঙ্গে নিয়ে খড়গপুর আইআইটিতে ভর্তি হন তিনি। তাঁর এই সাফল্যে খুশির হাওয়া শুধু পরিবারেই নয়, গোটা জাড়দা গ্রাম-সহ বেলপাহাড়ি এলাকাজুড়েই।

Advertisement

তাঁর গবেষণার মূল লক্ষ্য হবে, গ্রামীণ সমাজের উন্নয়নে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে কাজ করা। 

দেবকুমারের বাবা লক্ষ্মীকান্ত সিংহ দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে গ্রামে ঘুরে অ্যালুমিনিয়ামের বাসনপত্র বিক্রি করে। সামান্য আয়েই সংসার চালানোর পাশাপাশি তিন সন্তানের পড়াশোনার খরচ বহন করেছেন তিনি। পরিবারের বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছোট ছেলে প্রদ্যুৎ কুমার সিংহ গত বছর মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস পাঠক্রমে ভর্তি হয়েছেন।

দেবকুমারের পড়াশোনার শুরু জাড়দা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে মুড়ারী এসসি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকেই ২০১৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন। এরপর হলদিয়া গভর্নমেন্ট কলেজে ভূগোল নিয়ে স্নাতক এবং কলকাতার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। খড়গপুর আইআইটিতে গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সেখানে গ্রামীণ উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করবেন দেবকুমার। তাঁর গবেষণার মূল লক্ষ্য হবে, গ্রামীণ সমাজের উন্নয়নে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে কাজ করা। নিজের এই সাফল্যের নেপথ্যে মুড়ারী এসসি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভূগোলের শিক্ষক অচিন্ত্য সরকারের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন দেবকুমার।

তাঁর কথায়, ''একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে অচিন্ত্য সরকার স্যরের পড়ানোর ধরনই আমার মধ্যে ভূগোল বিষয়ের প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি করে। তখনই ঠিক করি, এই বিষয় নিয়েই উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা করব। ইউজিসি নেট-জেআরএফ পরীক্ষায় ভালো ফল করার পর আইআইটি খড়গপুরে গবেষণার সুযোগ পাওয়াটা আমার কাছে স্বপ্নপূরণের মতো। বাবা-মায়ের ত্যাগ, শিক্ষকদের উৎসাহ এবং পরিবারের সমর্থন ছাড়া এই জায়গায় পৌঁছনো সম্ভব হত না।" গত ২৩ জুলাই খড়গপুর আইআইটিতে ভর্তি হতে গেছিলেন। সেই সময় তাঁর বাবা এবং মা দু'জনেই তাঁর সঙ্গে ছিলেন। সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে দেবকুমার বলেন, "ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বাবা-মায়ের মুখের হাসিটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement