সুমন করাতি, হুগলি: ছাব্বিশের ভোটের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশে আইপ্যাক অফিসে ইডি হানা, এই অভিযোগ গোড়াতেই তুলেছিল তৃণমূল। এবার সেই অভিযোগ আরও নির্দিষ্টভাবে তুললেন দলের বিধায়ক অসিত মজুমদার। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বাড়িতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। লক্ষ্য একটাই, তথ্য চুরি। কেউ 'চুরি করতে এলে ছিনতাই হবেই' বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদক্ষেপের প্রশংসা করতে শোনা গেল তাঁকে।
সমীকরণ অতি সহজ - 'ইটের বদলে পাটকেল।' কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যদি তৃণমূলের গোপন তথ্য 'চুরি'র চেষ্টা করে, তাহলে তার পালটায় তৃণমূল নেত্রীও ফাইল ছিনতাই করবেনই। এমনই তত্ত্ব চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের। শনিবার তিনি রীতিমতো বিস্ফোরক দাবি তুললেন। তাঁর কথায়, ''যাঁরা প্রার্থী হবে বা যাঁদের ভোটে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা আছে, তাঁদের বাড়িতেই ইডি তল্লাশি করবে, এই ধান্দা ছিল। ফাইল একটা দলের গোপন জিনিস। তাতে দলের কৌশল ঠিক করা থাকে। সেই ফাইল যদি কেউ চুরি করতে আসে, সেটা ছিনতাই তো হবেই।'' তাঁর আরও বক্তব্য, ''ইডি তল্লাশি করিয়ে মানুষকে বলবে, এই তো ইডি রেড হচ্ছে। সেই পরিকল্পনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জল ঢেলে দিয়েছেন। তাই জন্য ওরা বিষোদগার করছে। ভোট যত এগিয়ে আসবে, ইডি সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্সের চাপ তত বাড়বে। মানুষ ওদের সঙ্গে নেই। মিথ্যা কথা বলে কতদিন চলে?''
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আইপ্যাক অফিস ও কর্ণধারের বাড়িতে ইডি তল্লাশি এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে সবচেয়ে সরগরম বিষয় হয়ে উঠেছে। ইডির দাবি, ২০২০ সালে দায়ের হওয়া কয়লা পাচার মামলায় এই তল্লাশি। পালটা তৃণমূলের দাবি, আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে দলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থার কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের হানা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আর সেই কারণে তল্লাশির খবর পেয়েই ওইদিন আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে গিয়ে ফাইল নিয়ে বেরন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিস থেকেও বেশ কিছু নথিপত্র নিয়ে যান তিনি।
মমতার কথায়, ''আমি দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে ওখানে গিয়েছিলাম, কোনও অন্যায় করিনি। আইপ্যাক আমাদের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা, ভোটের কৌশল ঠিক করে। এখানে ভোটের আগে তল্লাশির উদ্দেশ্য ছিল, তৃণমূলের রণকৌশল চুরি করা। এসব আমার দলের কাগজপত্র, তাই আমি নিয়ে এসেছি।'' যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ভূমিকাকে ইডি তদন্তে বাধা দেওয়া হিসেবেই দেখছে। এনিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে তৃণমূল নেত্রী যে সেসময় যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা মনে করছেন দলের বর্ষীয়ান বিধায়ক অসিত মজুমদার।
