পঞ্চায়েত অফিসের গেটের বাইরে ফুঁসছে জনতা। আঙুল উঁচিয়ে চেঁচামেচি, চলছে তুমুল বিক্ষোভ। আর ভিতরে তালাবন্দি পঞ্চায়েত প্রধান হাউমাউ করে কেঁদে ভাসাচ্ছেন। হাঁটু মুড়ে বসে কান ধরে ক্ষমা চাইতে থাকলেন নাগাড়ে। চরম নাটকীয় ঘটনা পাঁচলা ব্লকের জুজারসা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে।
জনগণের ক্ষোভের মুখে হাউহাউ করে কাঁদতে থাকলেন তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান। তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের নাম মন্দিরা গায়েন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, মন্দিরার বিরুদ্ধে জোর করে জমি দখল সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারও করেছিল। পরে তিনি জামিনে ছাড়া পান। এদিকে তাঁর বিরুদ্ধে জনগণের ব্যাপক ক্ষোভ জমেছিল। সোমবার তিনি পঞ্চায়েত অফিসে পৌঁছতেই জনরোষ উপচে পড়ে। সেই সময় তাঁকে ঘিরে ফেলেন এলাকার বাসিন্দারা। পঞ্চায়েতের কর্মী সমেত প্রধানকে গেটে তালা দিযয়ে আটকে রাখা হয়। তারপরেই শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হাউ হাউ করে কাঁদতে শুরু করেন তিনি। বিক্ষোভকারীদের কাছে কান ধরে ক্ষমা চান। তৃণমূল প্রধানের কান্নাতেও ক্ষোভের আগুনে জল পড়েনি। উলটে আরও ক্ষেপে ওঠে বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতেই খবর যায় পাঁচলা থানায়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।
এবিষয়ে পাঁচলার বিজেপির নেতা রঞ্জন পাল বলেন, "মন্দিরা মানুষের উপরে এতই অত্যাচার করেছে, তা অসহনীয় হয়ে উঠেছিল। তার বিরুদ্ধে মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। এদিন উনি পঞ্চায়েতে এসে কিছু ফাইল লোপাট করতে চেয়েছিলেন। তাই সাধারণ মানুষের এই ধরনের বিক্ষোভ কার্যত স্বাভাবিক।" দিকে দিকে তৃণমূল ছোট-বড় নেতারা জনরোষের মুখে পড়ছেন। দুর্নীতিগ্রস্তদের পরপর 'ডিম থেরাপি' চলছে। জালে ওঠা নেতাদের কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরাচ্ছে পুলিশ। এ ছবি তো এখন রোজকারের ঘটনা। হাজারো দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত তৃণমূল প্রধান কি শাস্তির হাত থেকে বাঁচতেই 'কুমিরের কান্না' জুড়লেন?
