গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ দুই মৎস্যজীবী, তাঁরা সম্পর্কে বাবা-ছেলে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির বাসিন্দা তাঁরা কেরলের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। সাতদিনের বেশি হয়ে গিয়েছে তাঁরা নিখোঁজ। ঘটনার খবর আসার পরেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিখোঁজ বাবা ও ছেলের নাম লক্ষ্মণ দাস ও বাদল দাস। তাঁদের কোনও খোঁজ না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবারের সদস্যরা।
জানা গিয়েছে, কেরলে সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য একটি ট্রলার গিলেছিল। ওই ট্রলারেই ছিল বছর ৪২-এর লক্ষ্মণ দাস ও বছর ২০-এর বাদল দাস। গত ৬ মার্চ গভীর সমুদ্রে ট্রলারটি একটি পণ্যবাহী জাহাজের ধাক্কায় উলটে যায়। জলে পড়ে যান মৎস্যজীবীরা। পরে অন্যান্যদের উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ বাবা-ছেলে। পরিবার ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে মোট ১১জন মৎস্যজীবী কেরলের উদ্দেশ্যে 'কেটলি-২' নামের একটি ট্রলার নিয়ে গিয়েছিলেন।
পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মারফত যোগাযোগও ছিল। বাবা-ছেলে কুলতলির বাসিন্দা। বাকিরা কাকদ্বীপের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, গত ৬ মার্চ দুপুরে ট্রলারটি মাঝ সমুদ্রে থামিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ক্লান্ত থাকায় অনেকেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বলে খবর। আচমকাই ঘটে যায় ওই দুর্ঘটনা। অভিযোগ, একটি জাহাজ ওই ট্রলারটিকে ধাক্কা মারে। সঙ্গে সঙ্গে উলটে যায় ট্রলারটি।
অনেকেই ট্রলার থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। জানা গিয়েছে, ট্রলারের মধ্যে ঘুমোচ্ছিলেন মৎস্যজীবী লক্ষ্মণ। ছেলে বাদল বাবাকে ডাকতে যায়। সেইসময় ট্রলারটি উলটে যায়। নিখোঁজ হয়ে যান দু'জনেই। অন্যান্যরা সাঁতার কেটে কোনওরকমে ভেসে থাকার চেষ্টায় ছিলেন। কিছু সময় পরে অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার সেখানে গিয়ে বাকিদের উদ্ধার করে। সেদিন থেকেই নিখোঁজ বাবা-ছেলে! জখমরা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
বাবা-ছেলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সদ্যই এসে পৌঁছয় পরিবারের সদস্যদের কাছে। পরিবারের সদস্যরা একরাশ উৎকন্ঠা নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। যদিও কুলতলির বিধায়কের তরফে ওই পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
