বকেয়া মহার্ঘভাতা আদায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নৈতিক জয় হয়েছে আন্দোলনকারীদের। শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, বকেয়ার ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার এই বকেয়া মেটাতে আরও খানিকটা সময় চেয়ে ফের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। রাজ্যের কোষাগারে টান, সামনে ভোট - এমনই বেশ কয়েকটি যুক্তি দেখিয়ে আবেদন জানানো হয়েছে, আরও কিছুটা সময় দেওয়া হোক। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার ডিএ আন্দোলনকারীরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। সমস্ত সরকারি অফিসের কাজ থামিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ। কিন্তু তাঁর ডাকে তেমন সাড়া পড়ল না। শহর কলকাতা থেকে জেলা - সর্বত্রই সচল ছিল সরকারি পরিষেবা।
বকেয়া ডিএ-র দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের ডাকা ধর্মঘট কার্যত ফিকে উত্তর ২৪ পরগনায়। নবান্নের কড়া নির্দেশিকা ও ‘সার্ভিস ব্রেক’ নিয়ে সতর্কতার জেরে অধিকাংশ কর্মীই কর্মস্থলে যোগ দেন। জেলাজুড়ে সরকারি দপ্তর, স্কুল-কলেজ ও পরিবহণ পরিষেবা স্বাভাবিক ছিল। তবে বারাকপুর শিক্ষা ভবনের সামনে বিক্ষোভের ছবি উঠে আসে। বিক্ষোভ দেখান নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি। শুক্রবার সংগঠনের সদস্যরা শিক্ষা ভবনের সামনে জমায়েত হয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন এবং কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের দাবি, কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘভাতা না দেওয়ায় কর্মচারীরা আদালতের দ্বারস্থ হন। হাই কোর্ট গত ৬ মার্চের মধ্যে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর হয়নি। তারই প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের যৌথ মঞ্চ ধর্মঘটের ডাক দেয় বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
বিক্ষোভকারী শুভব্রত চক্রবর্তী বলেন, “আন্দোলনের পথেই সরকারকে মাথা নোয়াতে হবে। আদালতের উপরও আমাদের ভরসা রয়েছে। কিছুদিন টালবাহানা করা যেতে পারে, কিন্তু রাজ্য সরকারকে ডিএ দিতেই হবে। ২০১৬ সাল থেকে লড়াই চলছে, শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের অধিকার আদায় করেই ছাড়ব।” জেলা প্রশাসনের দাবি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে হাজিরা প্রায় স্বাভাবিক ছিল। জেলাশাসকের দপ্তর থেকে মহকুমা ও ব্লক অফিসে কাজকর্ম সচল ছিল। স্কুল-কলেজেও পঠনপাঠন স্বাভাবিক ছিল বলে প্রশাসনের দাবি।
নদিয়া উত্তরেও প্রায় একই ছবি। তেহট্টের বেতাই উচ্চ বিদ্যালয়ে ডিএ-র দাবিতে ফুলের একাংশের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ ক্লাস বয়কট করে স্কুল গেটে অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হন। ধর্মঘট সমর্থনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারা হাজিরা খাতায়ও এদিন স্বাক্ষর করেননি। সবমিলিয়ে প্রায় ৬০ জন সকলেই আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন। তবে সামগ্রিক ধর্মঘটের কোনও প্রভাব পড়ল না। উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতি সুদীপ বিশ্বাস জানান, যে সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকারা সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সমর্থক, তাঁরা কয়েকজন স্কুল গেটের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করেছেন। ওই সংগঠনের বাইরে যে সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার আছে তারা যথারীতি স্কুলে এসেছে। এবং হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর এবং ক্লাস করিয়েছেন। সেইসঙ্গে তাঁর সংযোজন, একদিন ক্লাস না হলে ছাত্রছাত্রীদের অনেক ক্ষতি হয়ে যায়, এই বিষয়টা শিক্ষক শিক্ষিকাদের বোঝা উচিত।
