shono
Advertisement
Padmasree

সূচ-সুতোর জাদু! মায়ের কাছে শেখা সেলাইয়ে তাক লাগিয়ে পদ্মশ্রীপ্রাপ্তি সিউড়ির তৃপ্তির

নিজের কাজের পাশাপাশি সূচিশিল্পের মাধ্যমে মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলার পিছনেও বিশাল অবদান তৃপ্তিদেবীর।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 09:12 PM May 25, 2026Updated: 09:12 PM May 25, 2026

রতন কাহারের পর  বীরভূম পেল আরেক 'পদ্মশ্রী'কে। তিনি সিউড়ির বাসিন্দা তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়। সূচ-সুতোয় তাঁর অপূর্ব কাঁথাস্টিচ শিল্পকর্ম ও নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য ভূমিকার জন্য দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ অসামরিক নাগরিক সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন। সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মান তুলে দেওয়া হয়। তৃপ্তি জানান, পদ্মশ্রীপ্রাপ্তি তাঁর জীবনের স্বপ্ন! দীর্ঘদিন ধরে এই দিনটির অপেক্ষা করেছেন। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। জেলা শিল্প দপ্তর থেকেই তৃপ্তির নাম পদ্মশ্রীর জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল। তৃপ্তির এই প্রাপ্তিতে খুশি তারাও। কাঁথাস্টিচ শিল্পী হিসাবে এর আগে নিজের শিল্পকর্মের জন্য জাতীয় পুরস্কার, বঙ্গশ্রী পুরস্কার এবং কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রক থেকে হস্তশিল্প ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সম্মান ‘শিল্পগুরু’ পুরস্কার পেয়েছেন সিউড়ির তৃপ্তি। এবার সেই তালিকাতেই জুড়ল পদ্ম সম্মান।

Advertisement

ছোটবেলায় মা মায়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সূচ-সুতোর কাজে হাতেখড়ি হয় তৃপ্তির। কাপড়ের উপর ছবি এঁকে তাকে রঙিন সুতো দিয়ে সাজিয়ে তোলার প্রতি তখন থেকেই গড়ে ওঠে আগ্রহ। ধীরে ধীরে সেই আগ্রহ বদলে যায় নেশায়। ছোট ছোট কাজ থেকে শুরু করে বড় শাড়ি ও অন্যান্য কাপড়ের উপর কাঁথাস্টিচের কাজ করতে শুরু করেন তৃপ্তি। তবে শুধু নিজে কাজ করা নয়, অন্যদের কাজ শেখানোর প্রতিও ছিল তাঁর সমান আগ্রহ।

তৃপ্তি জানান, ছোটবেলায় মা মায়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সূচ-সুতোর কাজে হাতেখড়ি হয় তাঁর। কাপড়ের উপর ছবি এঁকে তাকে রঙিন সুতো দিয়ে সাজিয়ে তোলার প্রতি তখন থেকেই গড়ে ওঠে আগ্রহ। ধীরে ধীরে সেই আগ্রহ বদলে যায় নেশায়। ছোট ছোট কাজ থেকে শুরু করে বড় শাড়ি ও অন্যান্য কাপড়ের উপর কাঁথাস্টিচের কাজ করতে শুরু করেন তৃপ্তি। তবে শুধু নিজে কাজ করা নয়, অন্যদের কাজ শেখানোর প্রতিও ছিল তাঁর সমান আগ্রহ। ১৯৯০ সাল থেকেই তিনি শুরু করেন প্রশিক্ষণের কাজ। বীরভূম জেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে গ্রামে ঘুরে মহিলাদের কাঁথাস্টিচের কাজের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তিনি৷ শুধু প্রশিক্ষণ নয়, তাঁদের হাতের তৈরি কাজকে বাজারজাত করে প্রকৃত মূল্য পাইয়ে দিতেও কাজ চালিয়ে গিয়েছেন পদ্মশ্রী তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়৷

কাপড়ে কাঁথাস্টিচে দেশপ্রেম তুলে ধরেছেন তৃপ্তি। নিজস্ব ছবি

এখনও পর্যন্ত প্রায় কুড়ি হাজারেরও বেশি মহিলাকে কাঁথাস্টিচের কাজ শিখিয়ে স্বনির্ভরতার পাঠ দিয়েছেন তিনি৷ এখন তাঁর সঙ্গে জেলার প্রায় ৪০০ মহিলা কাজ করেন, আর বাকিরা নিজেদের মতো করে রোজগারের রাস্তা খুঁজে নিয়েছে। একাধিকবার বিশ্বের দরবারে ভারতের তথা বাংলায় এই শিল্পকর্মকেও তুলে ধরেছেন তিনি। ভারত সরকারের উদ্যোগে বার্মিংহাম, লন্ডন এবং টোকিওতে তিনবার ভারতীয় শিল্পকলার প্রচারে গিয়েছেন তিনি৷ ভিন দেশেও সমাদৃত হয়েছে তাঁর শিল্পকলার নৈপুণ্য। গত বছর জুলাই মাসে দিল্লির 'ভারত মণ্ডপম'-এ বাংলায় শিল্পকলার চর্চা ও বিকাশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘ আলোচনা হয় বলে জানান তৃপ্তি। 

কাঁথাস্টিচের কাজে জাদু শিল্পী তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়ের। নিজস্ব ছবি

আগামী দিনে জেলার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মহিলাদের মধ্যে কাঁথাস্টিচের জাদু দেখিয়ে তাঁদের স্বনির্ভর করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তৃপ্তি। তিনি বলেন, “আদিবাসী সম্প্রদায়ের মহিলাদের মধ্যে এখনও বাইরের সমাজের সঙ্গে মেশার প্রবণতা কম৷ তাই তাঁদের মধ্যে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তা বিকাশের সুযোগ পায় না৷ আমি ইতিমধ্যেই বেশ কিছু আদিবাসী গ্রামে গিয়ে সেখানকার মহিলাদের কাঁথাস্টিচের কাজ শেখাচ্ছি। আদিবাসী শিল্পকলাও সেখানে জুড়ে যাচ্ছে। আগামী দিনে এই কাজকেই আরও বড় মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে আমার।”

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement