তরুণ প্রজন্ম মানেই ভাবনাচিন্তা, পোশাকআসাক— সবেতেই খোলামেলা। প্রবীণদের মতো নানা বিষয়ে ট্যাবু তাদের নেই। অকারণ ছুৎমার্গ নেই। তারা মনে করে, বাড়াবাড়ি রকমের রাখঢাক করার বদলে সেক্স এডুকেশন নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা হওয়া উচিত। এমনিতেও সিনেমা হোক বা সাহিত্য, যৌন আবেদনমূলক অভিব্যক্তি নিয়ে ‘লাজে মরি’ ভাব থেকে তারা দূরত্বই বজায় রাখে সচরাচর। তবে কি স্বাভাবিকভাবেই যৌন মেলামেশাতেও তাদের এগিয়ে থাকার কথা নয়?
দ্রুত ‘ডিজিটাল’ জীবনের মানিয়ে নিতে, তাদের বেশিরভাগেরই দিন কেটে যায় স্ক্রিনের সামনেই
সাম্প্রতিক এক সার্ভে খানিক আঘাত হেনেছে এই ধারনায়। এগিয়ে নয়, বরং পূর্বতন প্রজন্মদের থেকে এ ব্যাপারে অনেকখানি পিছিয়ে জেন জি (genZ), জানাচ্ছে সমীক্ষা। সংশ্লিষ্ট মার্কিন সংস্থা জানাচ্ছে, ১৯৯০ নাগাদ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যৌন কার্যকলাপে সরাসরি যুক্ত থাকার হার ৫৫%। অথচ সাম্প্রতিককালে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৩৭ শতাংশে! সেই অনুযায়ী আগামিদিনে তা আরও কমবে বই বাড়বে না। এমনকী ভারতের ক্ষেত্রেও যে এই চিত্রের খুব অন্যথা হবে না, সে বিষয়ে নিশ্চিত গবেষকমহল।
কিন্তু কেন? যৌন মিলনের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহহীনতার পিছনে মুখ্য কারণ কী হতে পারে? গবেষণায় উঠে এসেছে বহুবিধ কারণ।
১। শিক্ষার হার বাড়ার সঙ্গে বরাবরই কমেছে মানুষের যৌন আগ্রহ। এ কারণে নিম্ন শিক্ষার হার-যুক্ত এলাকাগুলিতে আজও জনসংখ্যা সামলাতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে।
২। তরুণ প্রজন্ম সর্বদা কাজে ব্যস্ত। দ্রুত ‘ডিজিটাল’ জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে, তাদের বেশিরভাগেরই দিন কেটে যায় স্ক্রিনের সামনেই। আর্থিক হোক বা সামাজিক, পিছিয়ে পড়ার টেনশন সারাক্ষণ তাড়া করে বেড়ায়। ফলত যৌনতার প্রতি অনাগ্রহ বাড়ে।
৩। পাল্লা দিয়ে বাড়ে মানসিক অবসাদ। যৌনতা শরীরী খেলা হলেও তাতে মনের অংশগ্রহণ অনস্বীকার্য। মানসিক অবসাদ যত গ্রাস করে নেয় মানুষকে, ততই যৌনতার প্রতি তারা নির্লিপ্ত হতে থাকে। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সময় থাকতে মানসিক রোগের চিকিৎসা না করানো হলে, যৌন ক্ষমতায় আদতেই ভাটা পড়ে যেতে পারে!
মানসিক অবসাদ যত গ্রাস করে নেয় মানুষকে, ততই যৌনতার প্রতি তারা নির্লিপ্ত হতে থাকে।
৪। জেন জি'র মধ্যে বাড়ছে হীনমন্যতা, আত্মগ্লানি, হতাশা। যদিও এমনটা মানসিক অবসাদেরই প্রতিফলন, তবে এতে জুড়ে রয়েছে সামাজিকভাবে মানিয়ে নিতে না পারার বিষয়টিও। বর্তমানে সকলেই যেন ক্রমাগত ছুটে চলেছে। একের পর এক ভালো চাকরি, বাড়ি হলে তার চাইতেও বড় বাড়ি, দামী গাড়ি, বিদেশ ট্রিপ— সাদামাটা জীবনের তুলনায় নিরন্তর রেস-এর প্রতি মন ঝুঁকেছে তরুণ প্রজন্মের। সৌজন্যে সোশাল মিডিয়া। অন্যের উন্নতি যেন সর্বদাই এক অদৃশ্য টাইমবোম্ব বেঁধে দিয়েছে গায়ে! যার সঙ্গে পাল্লা দিতে কেবল দৌড়ে চলাই বিধান। দাঁড়িয়ে, থেমে জীবনের আনন্দ অনুভব করার মতো অবকাশ যেখানে নেই। বলা বাহুল্য, এমন জীবনধারায় স্থান নেই প্রেমময় যৌন মিলনেরও।
তবে কি কেবলমাত্র আগেকার ধীর-স্থির জীবনই সুস্থ দাম্পত্য, সুখী যৌনজীবনকে ত্বরান্বিত করতে পারত? সমীক্ষাটিকে ঘিরে ভিড় করেছে হাজারও প্রশ্ন।
