নাবালিকাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ! পরিবার জানতে পেরে অভিযোগ করতেই শ্রীঘরে স্থান হয় যুবকের। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলাও হয়। চলে দীর্ঘ আইনি লড়াই। শেষমেশ আদালতের সম্মতিতে এবং দুই পরিবারের উপস্থিতিতেই চার হাত এক হল সেই যুবক-যুবতীর। একেবারে এক অন্য ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমা আদালত। কিন্তু ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে?
অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম সুরজ মণ্ডল। গাইঘাটা থানার সুটিয়ার বাসিন্দা। গত চারমাস আগে এলাকারই এক নাবালিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক জড়ায়। শুধু তাই নয়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই নাবালিকার সঙ্গে একাধিকবার সহবাস করে বলেও অভিযোগ। এরপরেই বেঁকে বসে অভিযুক্ত ওই যুবক। শুধু তাই নয়, এই বিষয়ে নির্যাতিতা যাতে কাউকে কিছু না জানায় সেই ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ। কিন্তু এর মধ্যেই অন্তঃসত্ত্বাও হয়ে পড়ে ওই নাবালিকা। এরপরেই পরিবারের সদস্যদের সমস্ত ঘটনা খুলে বলে সে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় থানায় অভিযুক্ত সুরজের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পকসো আইনে ধৃতের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। আদালতে তোলা হলে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় বিচারক। ঘটনার পর কেটে যায় চারটে মাস! ১৮ বছরের গণ্ডি পার করে ওই নাবালিকা এখন প্রাপ্তবয়স্ক! এরপরেই আদালত চত্বরে আরও এক নাটকীয় মোড়।
নাবালিকার বয়স ১৮ হয়ে যাওয়ায় ছেলের পরিবারের লোকেরা বিয়েতে রাজি হয়ে যান। এমনকী অভিযুক্ত সুরজ মণ্ডলও বিয়ে করবেন বলে আদালতকে জানান। এমনকী ওই যুবতীও বিয়ে করবেন বলে আদালতকে জানান। উভয়পক্ষের আবেদনকে মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করেন বিচারক এবং বিয়েতে অনুমতি দেন। এরপর আদালত চত্বরেই বসে বিয়ের আসর। শ্রীঘর থেকে সোজা আইনজীবীদের সামনে আদালত চত্বরে কাবিলনামা পড়ে বিয়ে হয় যুবক-যুবতীর।
