এক চিলতে সাবান। ব্যবহার করতে করতে কখন যে পাতলা হয়ে আসে! মালুম চলে না। অবহেলায় সেটিকে ডাস্টবিনে ফেলে দিই অনেকেই। ভাবি, এটুকুই বা আর কী কাজে লাগবে? কিন্তু সাধারণ এই ছোট টুকরোগুলোই আপনার রোজকার জীবনের অনেক ঝক্কি কমিয়ে দিতে পারে। সামান্য বুদ্ধিতে যেমন পকেটের কড়ি সাশ্রয় হয়, তেমনই ঘরদোর থাকে ঝকঝকে আর সুগন্ধে ভরপুর।
ছবি: সংগৃহীত
আলমারির ভ্যাপসা গন্ধ নিয়ে অনেকেই নাজেহাল হন। বিশেষ করে বর্ষাকালে জামাকাপড়ে একটা স্যাঁতসেঁতে ভাব আসে। দামি পারফিউম না ছিটিয়ে ছোট সাবানের টুকরোগুলো ভালো করে শুকিয়ে নিন। তারপর পাতলা সুতির কাপড়ে বা জালিদার পোটলায় ভরে আলমারির ড্রয়ার বা জামাকাপড়ের খাঁজে রেখে দিন। আলমারি খুললেই নাকে আসবে মনোরম সুবাস। একইভাবে জুতোর দুর্গন্ধ কাটাতেও এটি অব্যর্থ। সারাদিন জুতো পরে থাকলে ঘামের গন্ধে টেকা দায়। রাতে জুতোর ভেতর এক টুকরো শুকনো সাবান রেখে দিন। এটি বাড়তি আর্দ্রতা শুষে নেবে এবং পরের দিন সকালে আপনার জুতো থাকবে একদম ফ্রেশ।
বাথরুমে অনেক সময় গন্ধ থেকে যায়। বাজারচলতি এয়ার ফ্রেশনারের বদলে সাবানের কুচি নিন। একটি পাত্রে রেখে বাথরুমের এক কোণে রেখে দিন। বাতাসের সংস্পর্শে এসে এটি প্রাকৃতিক সুগন্ধ ছড়াবে। অনেকে আবার বাড়িতে সেলাইয়ের কাজ করেন। কাপড়ে দাগ কাটার জন্য দর্জির চকের বদলে শুকনো সাবান ব্যবহার করে দেখুন। এতে দাগ যেমন স্পষ্ট হয়, তেমনই কাচার সময় খুব সহজে উঠে যায়। এর জন্য আলাদা করে চক কেনার প্রয়োজন পড়বে না।
ছবি: সংগৃহীত
ফেলে দেওয়া সাবান দিয়ে আপনি চাইলে বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন উন্নত মানের লিকুইড সোপ। সাবানের টুকরোগুলো প্রথমে কুচি করে কেটে নিয়ে সামান্য গরম জলে গুলে নিন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে তাতে পছন্দের এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে একটি বোতলে ভরে রাখুন। চমৎকার হ্যান্ডওয়াশ তৈরি হয়ে যাবে মুহূর্তেই। এ ছাড়া জ্যাম হয়ে যাওয়া চেইন বা ড্রয়ারের খাঁজে সাবান ঘষে দিলে তা আগের মতো মসৃণ হয়ে যায়। সামান্য বুদ্ধি খরচ করে সাশ্রয় করতে পারেন আপনিও। অপ্রয়োজনীয় ভেবে কোনও কিছু ফেলার আগে তাই একবার অন্তত ভেবে দেখুন। আপনার সংসারকে সাজিয়ে তুলতে তার ভূমিকা যথেষ্ট নয় কি?
