'সিন্ডিকেট-মাফিয়ারাজের দিন শেষ।' মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসার পরই বৈআইনি কারবারিদের পা কাঁপিয়ে হুঙ্কার দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপরেও একদল মাফিয়াদের দাপট দমনি। রাতের অন্ধকারে বেআইনি মাটি-বালি পাচার চলছে রমরমিয়ে। বেআইনি মাটি-বালি সিন্ডিকেটের আঁতুড়ঘর ভাঙতে অ্যাকশনে উত্তরপাড়ার বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে এবার বিস্ফোরক প্রাক্তন এনএসজি। এখানেই শেষ নয়, পাচারকারীদের সঙ্গে পুলিশি আঁতাঁতেরও অভিযোগ তোলেন বিজেপি বিধায়ক।
তাঁর অভিযোগ, "রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেআইনি মাটি ও বালি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বললেও স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের মদতে এখনও রাতের অন্ধকারে রমরমিয়ে চলছে বেআইনি মাটির ব্যবসা।"
বেআইনি মাটি পাচার রুখতে তৎপর বিজেপি। শুক্রবার রাতে উত্তরপাড়ায় বহুতল নির্মান সংস্থার মাটি বোঝাই ডাম্পার আটকে দেয় বিজেপি কর্মীরা। বেআইনি কারবারে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন উত্তরপাড়ার বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, "রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেআইনি মাটি ও বালি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বললেও স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের মদতে এখনও রাতের অন্ধকারে রমরমিয়ে চলছে বেআইনি মাটির ব্যবসা। নির্বাচনে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেও কোনওভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না মাটি মাফিয়াদের দাপট। এর আগেও বেশ কয়েকবার রাতের অন্ধকারে মাটি পাচার রুখতে উদ্যোগী হয়েছিল উত্তরপাড়া বিধানসভার স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। কিন্তু তাদের অভিযোগ পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার জন্য বারংবার বেআইনি মাটির ডাম্পার রাতের অন্ধকারে চলছে।"
উত্তরপাড়ার বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী জানান, "গত দেড় দশক ধরে উত্তরপাড়ায় যে মাফিয়া চলেছে তা এখনও নির্মূল হয়নি। এর জন্য আমি পুলিশকে দায়ী করছি। এর আগে রাত দেড়টার সময় আমাদের ছেলেরা ওখানে গিয়ে গাড়ি আটকায়, তখন উত্তর পাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক আমাদের ছেলেদের দায়ী করছিল। আমি উত্তরপাড়া থানার আইসির বিরুদ্ধে কমিশনার ও বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছি। শুভেন্দু অধিকারী বারবার বলেছেন, মাফিয়ারাজ-সিন্ডিকেট রাজ নির্মূল করে ছাড়ব। এর জন্য যতদূর যেতে হয় যাব, শেষ দেখে ছাড়ব।"
চন্দনগর কমিশনারেটের এক আধিকার জানান, "বহুতল নির্মাণ সংস্থায় যে মাটিরগাড়ি ঢোকে, ইদানিং বিজেপি নেতারা সেখানে গিয়ে তাদের আটকাচ্ছে। তাদের কাছে কোনও কাগজ না থাকায় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার রাতে বিজেপি কর্মীরা তাদের আটকায়, তারপর পুলিশ গিয়ে গাড়িগুলোকে আটক করে।" অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
