shono
Advertisement
CM Suvendu Adhikari

নেতাজিকে 'অসম্মানে' পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর, গ্রেপ্তার হবেন অনন্ত মহারাজ?

বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশকে সেই নির্দেশই দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
Published By: Sayani SenPosted: 06:55 PM Aug 12, 2026Updated: 07:21 PM Aug 12, 2026

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে অসম্মান করলেই কড়া ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। বিতর্কের মাঝে বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশকে সেই নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে কি এবার গ্রেপ্তার হবেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ, স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে জোর চাপানউতোর। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য জানান, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। সুতরাং অনন্ত মহারাজের চাপ যে ক্রমশ বাড়ছে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

Advertisement

অনন্ত মহারাজ বলেন, "জার্মানির হাতে বন্দি হওয়া ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই সেনাদের নিয়েই আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয়। নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছিলেন।"

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, "যারা সোশাল মিডিয়ায় নেতাজি নিয়ে অপমানজনক, মিথ্যা, অপপ্রচার করার দুঃসাহস দেখিয়েছেন। পুলিশকে তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিচ্ছি। অবিলম্বে
ক্ষমা চেয়ে পোস্ট করতে হবে। অসম্মানজনক পোস্ট ডিলিট করতে হবে। তবে ডিলিট করে দিলেই যে তিনি ছাড় পাবেন তা নয়। পুলিশ নির্দিষ্ট নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। এক্ষেত্রে পুলিশ নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে। কেউ হস্তক্ষেপ করবে না। নেতাজিকে অসম্মানে কঠোর এবং কঠিন ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।" সেক্ষেত্রে রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজও যে বাদ যাবে না, তা স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে বলেই সাফ জানান তিনি। তার ফলে অনন্ত মহারাজের বিপদ যে ক্রমশ বাড়ছে, তা বলাই বাহুল্য। এর আগে এদিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, প্রত্যেক বিধায়ককে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে নেতাজির নামাঙ্কিত সেবাকেন্দ্র চালু করতে হবে। প্রতিটি সেবাকেন্দ্রে নেতাজির ঐতিহ্যবাহী ধুতি ও পাঞ্জাবি পরিহিত বিশেষ ছবি রাখা বাধ্যতামূলক। দু'টি শর্তপূরণ করলে ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।

বলে রাখা ভালো, সম্প্রতি নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন অনন্ত মহারাজ। তিনি বলেন, "শুধু মহাত্মা গান্ধি, জওহরলাল নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই ভারত স্বাধীন হয়েছে, এই ধারণা সঠিক নয় । কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকা ইতিহাসে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন। জার্মানির হাতে বন্দি হওয়া ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই সেনাদের নিয়েই আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয়। নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছিলেন। আজ যদি আমি সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিই, তা হলে আমাকে এনকাউন্টার করা হবে। ব্রিটিশ আমলেও আইন ছিল। কোচবিহারের মহারাজাকে যদি স্বাধীন ভারতের সম্রাট করা হত, তবে দেশভাগ হত না। ভারত ও পাকিস্তান এক থাকত।" রাজ্যসভার সাংসদের এহেন মন্তব্য নিয়ে বিজেপির অন্দরে রয়েছে টানাপোড়েন। এই বিতর্কের জল কোনদিকে গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement