সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ক্রমশই শান্তি ফিরছে আসানসোলে। শনিবার সকালে আসানসোলের দিকে রওনা দিলেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি। রাজভবন সূত্রে খবর, নবান্ন এই সফরে আপত্তি জানায়নি। সকালে রাজভবন থেকে রাজ্যপালের কনভয় বেরিয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। বেলা ১১.১৫ মিনিটে তাঁর আসানসোল সার্কিট হাউসে পৌঁছানোর কথা। সেখানে গিয়ে প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন রাজ্যপাল। আগের দফায় আপত্তি তুললেও তাঁর এই সফরে নবান্নের আপত্তি নেই বলেই শোনা যাচ্ছে।
আজ আসানসোল-রানিগঞ্জের বেশ কয়েকটি জায়গা ঘুরে দেখবেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি। শান্তি রক্ষার আহ্বান জানাবেন। সেখানকার সাধারণ মানুষের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন। পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। সূচি মোতাবেক তারপর সার্কিট হাউসে ফিরে খানিকক্ষণ বিশ্রামের পর ফের রানিগঞ্জের দিকে রওনা দেবেন রাজ্যপাল। সেখানেও বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে অশান্তির সূত্র খোঁজার চেষ্টা করতে পারেন। সেখানকার বাসিন্দাদেরও শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আবেদন জানাতে পারেন রাজ্যপাল।
[‘দয়া করে দাঙ্গা বাধাবেন না’, কাতর আরজি আসানসোলের পুত্রহারা ইমামের]
এদিকে রাজ্যপালের সফরের দিন অনেকটাই স্বাভাবিক আসানসোল-রানিগঞ্জ। নতুন করে কোনও হিংসা বা অশান্তি ছড়ায়নি। শুক্রবার থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বাজারহাট খুলেছে। যান চলাচলও স্বাভাবিক ছিল। তবে ইন্টারনেট পরিষেবা এখন বন্ধই রয়েছে। আতঙ্কের পরিবেশও পুরোপুরি কাটেনি। টহলদারি করে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে আস্থা ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের নির্দেশে চারজনের সংসদীয় দল আসানসোল যাচ্ছে। দলে রয়েছেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, ওম মাথুর, শাহনওয়াজ হুসেন ও বি ডি রাম। রবিবার তাঁরা যেতে পারেন। বাধা পেলে পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় ও বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়কে পুলিশ আসানসোল-রানিগঞ্জে ঢুকতে দেয়নি। এ প্রসঙ্গে আসানসোলের মেয়র তথা তৃণমূল বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, “শহরে শান্তি ফিরছে। বাবুল সুপ্রিয় এসে অশান্তি পাকিয়েছেন। এবার বিজেপির কেন্দ্রীয় দল এসে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে।”
আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের কমিশনার লক্ষ্মীনারায়ণ মিনা জানিয়েছেন, আসানসোল-রানিগঞ্জে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আজও আসানসোলের নানা এলাকায় রুটমার্চ করে পুলিশ। রাজ্যস্তরের পুলিশ কর্তারা কনভয় নিয়ে ঘুরেছেন নানা এলাকায়। ঝাড়খণ্ড সীমানাতেও বাড়তি নজরদারি রয়েছে পুলিশের। এখনও অনেকে ঘরছাড়া। কল্যাণপুরে ত্রাণ শিবিরেও অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন। আসানসোল হিংসায় নেশাখোরদের একাংশ জড়িত বলে সূত্রের খবর। ডেনড্রাইট, ড্রাগ-সহ অন্যান্য নেশাখোরের ঘাঁটি বলে পরিচিত আসানসোল রেলপাড় এলাকায়। আর ওই এলাকা থেকেই হিংসা ছড়ায়। ঘটনার পর থেকেই সেই সব নেশাখোর এলাকাছাড়া। নুরি মসজিদের ইমামও নেশাগ্রস্ত ও কিছু বহিরাগতকে দায়ী করেছেন এই হিংসার জন্য।
[জটিল অস্ত্রোপচারের পর আপাতত স্থিতিশীল আসানসোলের জখম ডিসি]
The post আসানসোল-রানিগঞ্জের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রওনা দিলেন রাজ্যপাল appeared first on Sangbad Pratidin.
