জঙ্গলমহল পুরুলিয়ার ভোটে (West Bengal Assembly Election 2026) নয়া অঙ্ক! 'টাইগার' জয়রাম মাহাতোর দল ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চা পুরুলিয়ার ন'টি আসনেই প্রার্থী দেবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এই প্রার্থী তালিকা বাংলায় এসে ঘোষণা করবেন ঝাড়খণ্ডের ডুমরির বিধায়ক টাইগার জয়রাম মাহাতো। দলের কোর কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরুলিয়ার ন'টি আসনে টাইগারের দল প্রার্থী দিলে কুড়মি ভোট যে একেবারে ভাগ হয়ে যাবে তা পরিষ্কার। ফলে শাসক দল তৃণমূলের সুবিধা হবে এমন কথায় বলছেন পুরুলিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সভাপতি অশ্বিনী মাহাতো বলেন, " পুরুলিয়ার নটি আসনেই আমরা লড়বো। দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে আমাদের নেতা টাইগার এই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবেন।"
পুরুলিয়ায় টাইগার। ফাইল ছবি।
২০২৫ সালের ২ নভেম্বর পুরুলিয়ার (Purulia) জয়পুরে জঙ্গলমহলের প্রথম রাজনৈতিক সভা করে সমগ্র বনমহলে ঝড় তুলেছিলেন। তখনই ঘোষণা করেছিলেন বিধানসভা ভোটে জঙ্গলমহলে লড়বেন তাঁরা। খবর ছিল পুরুলিয়ার জয়পুর ও ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে প্রার্থী দিতে পারেন তাঁরা। যদিও টাইগার বলেছিলেন, জঙ্গলমহলের ৪ জেলা পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর কোথায় প্রার্থী দেওয়া হবে তার সমীক্ষা করা হবে। তাই সেই সময় থেকেই পুরুলিয়াকে বেশি জোর দিয়ে ব্লকে ব্লকে মিটিং করা শুরু করে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারি মোর্চা। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বৈঠক থেকেই আঁচ মিলেছে কুড়মি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে রীতিমত টাইগার জ্বর। কিছুদিন আগেই পূর্ণাঙ্গ পুরুলিয়া জেলা কমিটি তৈরি করে জেএলকেএম। পূর্ব ও পশ্চিম হিসাবে দু'জনকে জেলা সভাপতি করা হয়। সভাপতি-সহ ওই জেলা কমিটিতে রয়েছেন মোট ২৬ জন।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে ব্লক কমিটি ঘোষণা না করা হলেও তালিকা একেবারে চূড়ান্ত। অঞ্চল ও বুথে বুথে বৈঠক করে কমিটি গঠনের কাজ চলছে। জেএলকেএম সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ৭০ শতাংশ বুথে তাদের কমিটি তৈরি। যে ৩০ শতাংশ বুথে কমিটি গড়া হয়নি সেখানে ঢুকতে পারছে না জেএলকেএম । সেই কারণেই বাকি বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এবার জঙ্গলমহলে আদিবাসী কুড়মি সমাজ প্রার্থী দিচ্ছে না। ফলে যে কুড়মি ভোট বিজেপির দিকে যেত তা যে টাইগারের পক্ষে পড়বে তা কার্যত পরিষ্কার। কারণ কুড়মি আন্দোলনে কোন সঠিক নেতৃত্ব না থাকায় এখনও ঝাড়খণ্ডের বিধায়ক টাইগার জয়রাম মাহাতোর উপরেই ভরসা করে রয়েছে জঙ্গলমহলের কুড়মি জনজাতিদের একটি বড় অংশ। ফলে কুড়মি ভোট জেএলকেএম-এ পড়লে শাসক তৃণমূলের ব্যাপক সুবিধা হবে। ২৪-র লোকসভা নির্বাচনে পুরুলিয়া আসনে আদিবাসী কুড়মি সমাজ প্রার্থী দিলেও বিজেপির সঙ্গে সেটিংয়ের অভিযোগে ১ লাখ ভোটও টানতে পারেননি কুড়মি প্রার্থী। ফলে ওই আসন হারতে হয় তৃণমূলকে। শাসক দল আশা করেছিল, ভোট কাটাকুটির অঙ্কে ওই আসনে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। এবার টাইগারের দলের সঙ্গে বিজেপির যে কোন সেটিং হবে না তা জানে জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক মহল। তবে এ বিষয়ে ভীষণ সাবধানী পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল। এই নিয়ে কোন কথা বলতেই নারাজ।
জেএলকেএম সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ৭০ শতাংশ বুথে তাদের কমিটি তৈরি। যে ৩০ শতাংশ বুথে কমিটি গড়া হয়নি সেখানে ঢুকতে পারছে না জেএলকেএম । সেই কারণেই বাকি বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে আবার বাঘমুন্ডিতে কংগ্রেস আশাবাদী টাইগারের দলের প্রার্থীকে ঘিরে। কারণ সেখানে আজসু প্রার্থী হবে। কংগ্রেসের আশা, বিজেপির সমস্ত ভোট পাকা কলা ছাপে পড়বে না। ফলত, ওই ভোট পড়তে পারে টাইগারের পক্ষে। বর্তমানে ওই আসনে তৃণমূলের অবস্থা আগের মত না থাকায় সেখানে ভোট কাটাকুটির অঙ্কে সুবিধা পেতে পারে কংগ্রেস।
