ভোট (West Bengal Assembly Election) যত এগিয়ে আসছে, আসানসোলের রাজনীতির ময়দানে ততই বাড়ছে সৌজন্য আর সংঘাতের সংমিশ্রণ। প্রচারে বেরিয়ে বল্লভপুর পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচারে বেরিয়ে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সম্মুখীন বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। হাটতলা এলাকায় প্রচার চলাকালীন তাঁর মুখোমুখি হন এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা বল্লভপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সিদান মণ্ডল। দুই যুযুধান শিবিরের নেতার এই কথোপকথন ঘিরে সরগরম শিল্পাঞ্চল।
এদিন সকালে দলীয় কর্মীদের নিয়ে বল্লভপুর হাট-বাজারে জনসংযোগ করছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। সেই সময় বাজারে সবজি কিনছিলেন সিদান মণ্ডল। তাঁকে দেখেই এগিয়ে যান বিজেপি প্রার্থী। শুরু হয় সরাসরি বাক্য বিনিময়। অগ্নিমিত্রা পাল, তৃণমূল নেতাকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘‘আপনাকে সত্যের পথে থাকতে হবে। সত্যের পথে থাকতে হবে সব সময়, সাপোর্ট করতে হবে।’’ জবাবে সিদান মণ্ডল পাল্টা দাবি করেন, ‘‘সত্যের পথে আছি বলেই তো রাজনীতিতে এখনও টিকে আছি। ২০০৮ সাল থেকে প্রশাসনে আছি আমি। একটাও উল্টোপাল্টা কথা শুনেছেন আমার কাছে কোনওদিন?’’
তর্ক গড়ায় ধর্ম ও আদর্শের লড়াইয়ে। অগ্নিমিত্রা সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেন, ‘‘অধর্মের কাজ কিন্তু হচ্ছে। হিন্দুদের মারা হচ্ছে। সত্যের পথে থাকতে হবে এটুকুই বললাম।’’ দমে না গিয়ে সিদান বলেন, ‘‘আপনার রাজনীতি আলাদা, আমার রাজনীতি আলাদা। আমি রাজনীতি করি, রাজনীতির জায়গায় রাজনীতি হবে। রাজনীতি আপনি করছেন, আমিও করছি কিন্তু রাজনীতির মাটি ছাড়ব না। তবে কোনও নোংরা কাজে আমি নেই।’’
বাজারে উত্তাপ, শেষে সৌজন্য দীর্ঘক্ষণ চলে এই রাজনৈতিক বাদানুবাদ। তবে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মাঝেও দুই নেতা-নেত্রীর মধ্যে ব্যক্তিগত সৌজন্য বজায় ছিল। একে অপরকে নমস্কার জানিয়ে ‘‘পরে কথা হবে’’ বলে বিদায় নেন। বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে কথোপকথনের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিদান কড়া আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, ‘‘উনি হিন্দুদের কথা বলছেন, অথচ আমি তো নিজে একজন হিন্দু। রাজনীতিতে কেউ জমি ছাড়বে না। আমরা মাঠে নেমে প্রচার করছি।’’ অগ্নিমিত্রা পাল তাঁর অবস্থানে অনড় থেকে জানান, এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর যে অন্যায় হচ্ছে এবং সনাতন ধর্মের মানুষদের যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, সেটাই তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন।
