দিন দশ হল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টিম ইন্ডিয়া। যার রেশ কাটার আগেই আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। যেখানে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বুমরাহর 'ওয়ার্কলোড'। এরই মধ্যে খবর, জশপ্রীত বুমরাহর (Jasprit Bumrah) লোকসান পুষিয়ে দিতে ভারতীয় ক্রিকেটারদের জন্য বেতন কাঠামো বদলে ফেলতে পারে বিসিসিআই।
এই মরশুমেই এ+ ক্যাটেগরি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। এই চুক্তি কাঠামোর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বুমরাহর উপর। তিনি ২ কোটি টাকা কম পাচ্ছেন। তাই আবারও নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। আগের চুক্তি অনুযায়ী, এ+ ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা বছরে ৭ কোটি টাকা পেতেন। এ, বি এবং সি ক্যাটাগরির খেলোয়াড়রা পেতেন যথাক্রমে ৫ কোটি, ৩ কোটি এবং ১ কোটি টাকা। তবে নতুন কাঠামোয় এই অঙ্কে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ইঙ্গিত। যদিও এখনও সংশোধিত বেতনের কাঠামো নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
যাঁরা তিনটি ফরম্যাটেই নিয়মিত খেলতেন, তাদেরি এ+ ক্যাটাগরিতে রাখা হত। সাম্প্রতিক অতীতে বুমরাহের পাশাপাশি বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা ও রবীন্দ্র জাডেজারা এই ক্যাটেগরিতে ছিলেন। কিন্তু কোহলি, রোহিত, জাদেজারা টেস্টের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন। সেই কারণে সেই তালিকায় একমাত্র বুমরাহই ছিলেন।
বিসিসিআইয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, "বোর্ড এখন ভাবছে কীভাবে নতুন উপায় বের করা যায়। ওর মতো ক্রিকেটারের বার্ষিক বেতন বছরে ২ কোটি টাকা কমে যাক, সেটা চাইছে না বোর্ড। ওকে কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়, সেটা ভাবা হচ্ছে। আরও কয়েকজন ক্রিকেটার ভালো খেলার পরেও কম বেতন পায়। সেই কারণেই বেতন কাঠামোয় বদল হতে পারে।"
এই পরিস্থিতিতে কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত এ+ ক্যাটাগরি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিসিআই। ফলে সব ফরম্যাটে নিয়মিত থাকা সত্ত্বেও বুমরাহকে নামিয়ে আনা হয়েছে এ গ্রেডে। যেখানে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন শুভমন গিল এবং জাদেজা। ফলে ৭ কোটির বদলে ৩২ বছর বয়সি পেসার বছরে ৫ কোটি টাকা পাচ্ছেন। একই টাকা পাচ্ছেন জাডেজা এবং গিল। অর্থাৎ ২ কোটি টাকা কম পাচ্ছেন বুমরাহ। সেই কারণেই নতুন উপায় খুঁজছে বোর্ড।
বিসিসিআইয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, "বোর্ড এখন ভাবছে কীভাবে নতুন উপায় বের করা যায়। ওর মতো ক্রিকেটারের বার্ষিক বেতন বছরে ২ কোটি টাকা কমে যাক, সেটা চাইছে না বোর্ড। ওকে কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়, সেটা ভাবা হচ্ছে। আরও কয়েকজন ক্রিকেটার ভালো খেলার পরেও কম বেতন পায়। সেই কারণেই বেতন কাঠামোয় বদল হতে পারে।" উল্লেখ্য, বুমরাহই একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি তিন ফরম্যাটে ধারাবাহিকভাবে খেলেন। ওয়ার্কলোডের কারণে মাঝেমাঝে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হলেও তিনিই টিম ম্যানেজমেন্টের প্রথম পছন্দ। সেই কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অনবদ্য পারফরম্যান্স করেছেন বুমরাহ। তাই বোর্ডের অন্দরে বেতন কাঠামোয় বদল নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে।
কেবল বুমরাহ নন, বোর্ডের বর্তমান বেতন কাঠামোয় প্রভাব পড়েছে একাধিক ক্রিকেটারের উপর। অক্ষর প্যাটেলকে রাখা হয়েছে বি গ্রেডে, যেখানে আগে পারিশ্রমিক ছিল ৩ কোটি টাকা। কিন্তু এখন পাচ্ছেন ১ কোটি। পাশাপাশি কেএল রাহুল, হার্দিক পাণ্ডিয়া, ঋষভ পন্থ এবং মহম্মদ সিরাজের মতো ক্রিকেটাররাও একই গ্রেডে রয়েছেন।
