shono
Advertisement
Dilip Ghosh

'দেশ ওর প্রাণ', দিলীপের শপথে আবেগে ভাসলেন মা, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা রিঙ্কুর

ছেলের এই সাফল্যে আবেগঘন হয়ে পড়েন মা পুষ্পলতা ঘোষ। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান দেখার পর তিনি বলেন, ''ছেলে মন্ত্রী হয়েছে দেখে খুব ভালো লাগছে। মন্ত্রী হওয়ার আগেও মানুষের জন্য কাজ করেছে, এখনও করবে।''
Published By: Kousik SinhaPosted: 05:50 PM May 09, 2026Updated: 06:05 PM May 09, 2026

গ্রামের ‘দামাল ছেলে’ বলেই পরিচিত ছিলেন এক সময়। মাত্র বাইশ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রচারক হিসেবে বেরিয়ে পড়েছিলেন জীবনের পথে। তারপর নকশাল আন্দোলনের উত্তাল সময় থেকে বামপন্থী রাজনীতি এবং পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই। মাটি কামড়ে পড়ে থেকে সংগঠন গড়ে তোলা সেই দিলীপ ঘোষই শনিবার মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন ব্রিগেডের ময়দানে। আর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত টেলিভিশনের পর্দায় দেখে আবেগে ভাসলেন তাঁর অশীতিপর মা পুষ্পলতা ঘোষ। অন্যদিকে শপথের অনুষ্ঠানের পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা জানালেন দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার।

Advertisement

শনিবার দুপুরে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে যখন রাজ্যজুড়ে উৎসবের আবহ, তখন ঝাড়গ্রাম শহরে মেয়ের বাড়িতে বসে ছেলের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান দেখছিলেন পুষ্পলতাদেবী। বিধায়ক, সাংসদ হিসেবে ছেলেকে বহুবার দেখেছেন তিনি। তবে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার দৃশ্য যেন মা'য়ের কাছে অন্য রকম এক অনুভূতি। টিভির পর্দায় সেই দৃশ্য দেখার সময় বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ দিলীপ পত্নীর।

রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এদিন নতুন দায়িত্ব পেলেন দিলীপ ঘোষ। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর সদর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন তিনি। এর আগে ২০১৬ সালে ওই কেন্দ্র থেকেই প্রথম বার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর কেন্দ্র থেকে সাংসদ হন। যদিও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দুর্গাপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু রাজনৈতিক লড়াই থামেনি। ২০২৬ সালে ফের খড়্গপুর সদর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে এ বার সরাসরি প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিলেন দিলীপ ঘোষ। শোনা যাচ্ছে, উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন তিনি।

শুধু নির্বাচনী রাজনীতিতেই নয়, সংগঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির পশ্চিমবঙ্গ শাখার নবম সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজ করেছেন। দিলীপ ঘোষের আদি বাড়ি ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের কুলিয়ানা গ্রামে। নয়াগ্রাম বিধানসভার অন্তর্গত ওই গ্রাম থেকেই তাঁর পরিবারের শিকড়ের সূত্রপাত। পরে কর্মসূত্রে পরিবারের একাংশ অন্যত্র চলে গেলেও ঝাড়গ্রামের সঙ্গে সম্পর্ক কখনও ছিন্ন হয়নি। 

ছেলের এই সাফল্যে আবেগঘন হয়ে পড়েন মা পুষ্পলতা ঘোষ। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান দেখার পর তিনি বলেন, ''ছেলে মন্ত্রী হয়েছে দেখে খুব ভালো লাগছে। মন্ত্রী হওয়ার আগেও মানুষের জন্য কাজ করেছে, এখনও করবে। অনেক দিন আগে বাড়ি ছেড়ে চলে গেলেও মাঝেমধ্যে বাড়ি আসত। আমার ছেলে যে কর্ম করার জন্য গিয়েছে, সেই কর্ম পূর্ণ করবে। ও দেশের জন্য সব কিছু করতে পারে।'' মায়ের কণ্ঠে ছিল গর্ব, আবেগ এবং আশীর্বাদের মিশেল। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা উত্থান-পতনের সাক্ষী থেকেছেন তিনি। সেই ছেলে আজ রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় ঝাড়গ্রামের বাড়িতে যেন উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement