এ যেন ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা! 'তৃণমূল সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত দাড়ি কাটব না' - ২০১১ সালে এই শপথ গ্রহণ করেছিলেন খড়দহের কংগ্রেস কর্মী শংকর রায়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত দাড়ি কাটেননি। ২০২৬ সালে তাঁর সেই জেদের অবসান ঘটল। রাজ্যে পালাবদলের আবহে অবশেষে ভাঙল ১৪ বছরের রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞা। শনিবার প্রফুল্লনগরে দলীয় কর্মীদের উপস্থিতিতে দীর্ঘদিনের লালিত শ্মশ্রুগুম্ফ কেটে ফেললেন শংকর রায়। এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় প্রবল কৌতূহল আর আবেগের আবহ।
খড়দহের প্রিয়নগর এলাকার বাসিন্দা শংকর রায় কংগ্রেস কর্মী। তিনি জানাচ্ছেন, ২০১১ সালে কংগ্রেসের সমর্থনে তৃণমূল ক্ষমতায় এলেও পরে তাঁদের সঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে জোট ভেঙে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তার উপর একের পর এক কংগ্রেস নেতা, বিধায়ক ও কর্মীর তৃণমূলে যোগদান তাঁকে আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে। সেই অভিমান থেকেই শপথ নিয়েছিলেন, তৃণমূল সরকার ক্ষমতা থেকে না সরলে তিনি দাড়িতে ক্ষুর ছোঁয়াবেন না। বছরের পর বছর কেটে গেলেও নিজের সেই সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন শংকরবাবু।
শনিবার খড়দহ শহর কংগ্রেস সভাপতি জয়দেব ঘোষ, টিটাগড়ের কংগ্রেস নেতা সন্তোষ সিং, মহম্মদ কাউসার-সহ দলীয় কর্মীদের উপস্থিতিতে ঘটা করে তাঁর দাড়ি কাটা হল। 'বন্দে মাতরম' ধ্বনি, রাজনৈতিক স্লোগান, মোবাইলে ছবি তোলার হিড়িক - সবমিলিয়ে প্রফুল্লনগরের ওই মুহূর্ত যেন ছোটখাটো রাজনৈতিক উৎসবে পরিণত হয়। কৌতুহলবশে স্থানীয়দের একাংশও ভিড় জমান ঘটনাস্থলে। দাড়ি কাটার পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শংকরবাবু। তাঁর কথায়, “১৪ বছর ধরে সবাই একটাই প্রশ্ন করত - দাড়ি কাটছিস না কেন? উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। আজ মনে হচ্ছে বুকের ভিতর থেকে একটা ভার নেমে গেল।”
তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “কংগ্রেসের হাত ধরে ক্ষমতায় এসে পরে সেই কংগ্রেসকেই তৃণমূল ভেঙেছে। যে কবর কংগ্রেসের জন্য খোঁড়া হয়েছিল, আজ মনে হচ্ছে সেই কবরেই ওরা নিজেরাই ঢুকে গেছে।” এলাকাবাসীর একাংশের মতে, তাঁর এই দাড়ি কাটা তাই শুধু ব্যক্তিগত প্রতিজ্ঞা পূরণের ঘটনা নয়, পালটে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে কংগ্রেস কর্মীদের একাংশের জমে থাকা আবেগ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশও।
