বহরমপুরের পর এবার ক্যানিং। ভোটারদের হুমকি দিয়ে গ্রেপ্তার হলেন আরও এক তৃণমূল নেতা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা এলাকায় একটি সভা থেকে হাফিজুল মোল্লা নামে ওই নেতা ভোট গণনার দিন ‘স্টিম রোলার’ চালানোর হুঁশিয়ারি দেন। হাফিজুল দেউলি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। এই ঘটনায় কমিশনের নির্দেশে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
হাফিজুলের বিতর্কিত এই ভিডিওটি (যার সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন) ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তিনি বলছেন, "আমাদের ২৯ ভোট, ৪ মে গণনা। গণনার সন্ধ্যার পর থেকে বেইমান ও বিশ্বাসঘাতকদের উপরে 'স্টিম রোলার' চলবে, একথা আমরা খোলা আকাশের নিচে বলে যাচ্ছি। কারণ, এ লড়াই আমাদের জিততে হবে।" এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই তা নির্বাচন কমিশনের নজরে আসে। এই ঘটনায় হাফিজুলকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেয় কমিশন। ধৃতের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে খবর, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দলীয় প্রার্থী বাহারুল ইসলামের সমর্থনে ভোটের প্রচার করছিলেন হাফিজুল ও তাঁর অনুগামীরা। একটি ভ্যানের উপরে উঠে হাফিজুল বলেন, যাঁরা আইএসএফ, বিজেপি করছে তাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। সাম্প্রদায়িক বিজেপি এবং আইএসএফকে একটিও ভোট দেওয়া যাবে না। এই সকল বিশ্বাসঘাতকদের উপর দিয়ে স্টিম রোলার চালানোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
উল্লেখ্য, ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে শুক্রবার রাতে বহরমপুর তৃণমূলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি রাজু মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। ওই ভিডিওতে তাঁকে প্রকাশ্যে হুমকি দিতে দেখা গিয়েছে। রাজু বলেছেন, “পদ্মফুলে ভোট দেওয়া যাবে না। যদি ভোট নিয়ে কোনও গোলমাল হয়, ভোট দিতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমি বাড়িতে ছানাবড়া, রসগোল্লা পাঠিয়ে গেব। আর যদি ভোট দিতেই হয়, তবে দিতে হবে তৃণমূলকে।” তৃণমূল নেতার আরও দাবি, প্রতিটি বাড়ির ভোট কোন দিকে যাচ্ছে তা নাকি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হবে। এবং তা নথিভুক্ত করে রাখা হবে। এরপরই আরও এক তৃণমূল নেতাকে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ গ্রেপ্তার করা হল।
