‘‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাকে দেখতে চান? এলাকার বিধায়ক কেমন কাজ করছেন? আপনি কাকে ভোট (West Bengal Assembly Election) দিতে চান?’’ বাড়ি বাড়ি গিয়ে এরকমই বেশ কিছু প্রশ্ন করছিলেন এক যুবক। পরনে নীল প্যান্ট ও হালকা গোলাপি রঙের জামা, গলায় ঝোলানো আই কার্ড। যুবককে দেখে অনেকেরই সন্দেহ হয়। এনিয়ে দিন দুই আগে শোরগোল পড়েছিল হুগলির দেবানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ভুয়ো পরিচয়ে জনসমীক্ষার কাজ চালানোর অভিযোগে মঙ্গলবার ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ধৃত উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। কে বা কারা তাঁকে বিধানসভা ভোটের আগে এধরনের সমীক্ষা করতে এরাজ্যে পাঠিয়েছে, কাদের হয়েই বা কাজ করছে সে, সবদিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ভোটের (West Bengal Assembly Election) মুখে রাজ্যে বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত করার ষড়যন্ত্র হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এনিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। রাজ্যের সীমানা অঞ্চলগুলিতে পুলিশকে কড়া নজরদারির নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। সেই আশঙ্কা যে অমূলক নয়, তার প্রমাণ মিলল হুগলির দেবানন্দপুরে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, রবিবার আচমকাই এলাকায় উদয় হন এক যুবক। সকাল থেকেই ওই যুবক দেবানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে সমীক্ষার নামে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকেন। পাড়ার বিভিন্ন দোকান, চায়ের ঠেকে গিয়েও ওই যুবক এধরনের প্রশ্ন করে তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করেন। যুবকের আই কার্ডে উল্লেখ ছিল একটি কনসাল্টিং কোম্পানির নাম। একটি মোবাইল অ্যাপে সমস্ত তথ্য নথিবদ্ধ করছিলেন ওই যুবক।
গ্রেপ্তার উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা বিকাশ শর্মা। নিজস্ব ছবি
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, রবিবার আচমকাই এলাকায় উদয় হন এক যুবক। সকাল থেকেই ওই যুবক দেবানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে সমীক্ষার নামে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকেন। পাড়ার বিভিন্ন দোকান, চায়ের ঠেকে গিয়েও ওই যুবক এধরনের প্রশ্ন করে তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করেন। যুবকের আই কার্ডে উল্লেখ ছিল একটি কনসাল্টিং কোম্পানির নাম।
কিন্তু কোনও কারণে ওই যুবকের আচার-আচরণে সন্দেহ হয় গ্রামবাসীদের। তাঁরা যুবকের বিস্তারিত পরিচয় জানতে চান। জানা যায়, তাঁর নাম বিকাশ শর্মা। উত্তরপ্রদেশের গুরুগ্রামের বাসিন্দা। কিন্তু আচমকা এখানে এসে নির্বাচনী সমীক্ষা কেন? এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর দিতে না পারায় যুবকের উপর সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। এরপরই বিকাশকে ব্যান্ডেল ফাঁড়ির পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
দেবানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান পীযূষ ধর বলেন, ‘‘বাইরের রাজ্য থেকে এক যুবক এসে বাড়িতে ঢুকে পড়ছে। নানা ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করছে। এটা নিয়ে এলাকায় মানুষের মধ্যে একটা চাঞ্চল্য ছড়ায়। আমি ফাঁড়ির পুলিশকে খবর দিই। কী উদ্দেশ্য নিয়ে একজন অপরিচিত যুবক সমীক্ষার নামে লোকের বাড়িতে ঢুকে পড়ছে, সেটা দেখুক পুলিশ। বহিরাগতের সঙ্গে কিছু অঘটন না ঘটে, তার জন্য পুলিশকে জানিয়েছি।’’ পুলিশ সূত্রে খবর, ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এই ধরনের সমীক্ষা করার ব্যাপারে যুবকের কোনও অনুমতি রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এর পিছনে বিজেপির কারসাজি রয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের।
