shono
Advertisement

শেষ ল্যাপে গতি বাড়িয়ে একশো দিনের কাজে সর্বকালীন রেকর্ড বাংলার

অর্থবর্ষের শেষে শ্রমদিবসেও সেরা পশ্চিমবঙ্গ। The post শেষ ল্যাপে গতি বাড়িয়ে একশো দিনের কাজে সর্বকালীন রেকর্ড বাংলার appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 07:42 AM Mar 31, 2018Updated: 02:51 PM Jul 09, 2019

সন্দীপ চক্রবর্তী: শেষ ল্যাপে গতি আরও বাড়িয়ে একশো দিনের কাজে সারা দেশে সর্বকালীন রেকর্ড গড়ল বাংলা। বাংলার চমকপ্রদ সাফল্য এতটাই যে, দ্বিতীয় স্থানাধিকারীর সঙ্গে ব্যবধানও সর্বোচ্চ। প্রকল্পে মোট টাকা খরচ, শ্রমদিবস তৈরির মতো দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ২০১৭-’১৮ আর্থিক বর্ষে সেরা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। পরিবারপিছু কাজের দিনের নিরিখেও বড় রাজ্যগুলির মধ্যে সেরা বাংলা। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের রিপোর্টে স্পষ্ট, টাকা খরচে দ্বিতীয় তামিলনাড়ুর সঙ্গে এই রাজ্যের ব্যবধান ১৭০০ কোটি টাকার বেশি। আর্থিক বছর শেষের ঠিক আগের দিনের তথ্য এটি। পঞ্চায়েত ভোটের বিজ্ঞপ্তির ঠিক আগে এই রিপোর্ট রাজ্যের গ্রামীণ উন্নয়নের সাফল্যের সূচক বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।

Advertisement

[নাতির অপমানে ভিটে ছাড়া বৃদ্ধা, ঠাকুরমাকে উদ্ধার করলেন ‘পুলিশ নাতি’]

একশো দিনের কাজের প্রকল্পে যুক্ত থাকা মানুষের সংখ্যাও এই রাজ্যে সব থেকে বেশি। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৩০ মার্চ পর্যন্ত টাকা খরচ করেছে ৭৯৮৮.৮৪ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের শুরু থেকে এত টাকা কোনও রাজ্য খরচ করতে পারেনি। সর্বাঙ্গীণ সাফল্যও ছিল না কোনও রাজ্যের। ৬২৭৬.৯৬ কোটি টাকা খরচ করে দ্বিতীয় স্থানে তামিলনাড়ু। তৃতীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, খরচ করেছে প্রায় ৫৯৪৪ কোটি টাকা। গত আর্থিক বছরে বাংলা খরচ করেছিল ৭২৪৬.১১ কোটি টাকা। সেখানে তামিলনাড়ুর খরচ ছিল প্রায় ৫৭০০ কোটি টাকা। তার আগের বছর অবশ্য বাংলাকে হারিয়ে দেয় তামিলনাড়ু। গত দুই বছরে অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে বাংলার। পঞ্চায়েতের মাধ্যমে ক্ষমতায়নে সরকার গুরুত্ব দেওয়ায় সাফল্য এসেছে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা। এক পদস্থ আধিকারিকের বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলায় জেলায় ঘুরে বারবার মনিটরিং করার ফলে প্রশাসন বাড়তি তৎপর ছিলই। পাশাপাশি মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও সচিব সৌরভ দাশ টাকা আদায় ও নিচুস্তরে কাজ পৌঁছে দেওয়ার সব ব্যবস্থা করেছেন। সেরা হতে হবে ও মানুষকে কাজ দিতে হবে, এটাই লক্ষ্য ছিল।”

গতবার যেখানে এ রাজ্যে ২৩.৫৫ কোটি শ্রমদিবস তৈরি হয়েছিল। সেখানে এবার হয়েছে ৩০.৯৮ কোটি। তামিলনাড়ু এবার অনেকটাই পিছিয়ে। গতবার তাদের এই সংখ্যা ছিল ৩৯.৯৯ কোটি, এবার ২৩.৬১। তৃতীয় হয়েছে রাজস্থান। বিজেপি শাসিত ওই রাজ্যে শ্রমদিবস তৈরি হয়েছে ২৩.৩৬ কোটি। গুজরাত বা যোগীর রাজ্য উত্তরপ্রদেশ দুই ক্ষেত্রেই বাংলার ধারেকাছে কেন, সহস্র যোজনের মধ্যেও নেই। গুজরাত খরচ করতে পেরেছে ৮৯১.৮৭ কোটি টাকা, বাংলার খরচের ৯ ভাগের এক ভাগ। উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্যে খরচ ৪৪৬৬ কোটি টাকা। শ্রমদিবস তৈরি হয়েছে গুজরাতে ৩.৪৭ কোটি, উত্তরপ্রদেশে ১৭.৬৬ কোটি।

[প্রশ্নপত্র ফাঁসের জের, ২৫ এপ্রিল ফের CBSE-র দ্বাদশ শ্রেণির অর্থনীতি পরীক্ষা]

পরিবারপিছু কাজের নিরিখে বড় রাজ্যগুলির মধ্যে সেরা হয়েছে বাংলা। সাধারণত বড় রাজ্যগুলিকেই এক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ, অল্প জনসংখ্যার রাজ্যে মান বাড়ানো কঠিন নয়। এ রাজ্যে এই মান ৫৯.১৯। মেঘালয়ে ৬৬.৪৮ ও মিজোরামে ৬৪.৯৮। বড় রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে বরাবর তামিলনাড়ু সেরার দিকে থেকেছে। কিন্তু এবার পরিবারপিছু কাজের দিনের হিসাব ৪০.৭২। গতবারও তাদের এই মান ছিল ৬৩.৮৭। জয়ললিতার মৃত্যুর পর প্রশাসনে অচলাবস্থা ও কাজের ঢিলেমির ফলে এই বদল বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে একশো দিনের কাজে বাংলার দুর্দমনীয় অগ্রগতি যে প্রশাসনের গতির ফলেই তা নিয়ে দ্বিমত নেই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও গত মাসে স্বীকার করেছিলেন। উল্লেখ্য স্বচ্ছতার কথা ভাবলে বলা যায়, ইএফএমএস-এ রাজ্যে টাকা দেওয়া হয়েছে ৯৯.৯৮ শতাংশকে।

The post শেষ ল্যাপে গতি বাড়িয়ে একশো দিনের কাজে সর্বকালীন রেকর্ড বাংলার appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement