shono
Advertisement
Sand

বেআইনি বালি বাজেয়াপ্ত করে বর্ধমানে আদায় ৪ কোটি! শুভেন্দুর বার্তায় অভিযানে নেমেই সাফল্য

বেআইনিভাবে বালি মজুত করার অভিযোগে ১০ জন ইজারাদারকে শোকজ করা হয়েছে।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 03:54 PM May 30, 2026Updated: 04:11 PM May 30, 2026

রাজ্যের শাসনক্ষমতায় এসে বেআইনি বালি কারবার রুখতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। সেই বার্তা পেয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন ধারাবাহিক অভিযানে নেমে বড় সাফল্য পেল। গত এক সপ্তাহে বেআইনিভাবে বালি মজুদের বিরুদ্ধে অভিযানে ২৮ লক্ষ কিউবিক ফিট (সিএফটি) বেআইনি বালি মজুদের হদিশ পায়। তা বাজেয়াপ্ত করে মোট ৪ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করেছে। একইসঙ্গে ১০ জন ইজারাদারকে শোকজও করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অনুমতির বেশি বা অননুমোদিত জায়গায় বালি মজুদের জন্য।

Advertisement

পাশাপাশি, গরিব মানুষ যাঁরা আবাস যোজনায় ঘর তৈরি করছেন তাঁরা যাতে সস্তায় বালি কিনতে পারেন তার জন্যও বালিখাদানের ইজারাদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বালি ঘাটে ১২০০ টাকা প্রতি ১০০ সিএফটি দরে বালি বিক্রি করতে হবে ওই সব উপভোক্তাদের। পরিবহণ খরচ অবশ্য আলাদাভাবে বহন করতে হবে। এর বাইরে যাঁরা বাণিজ্যিক কারণে বালি কিনবেন তাঁদের বাজার দরেই বালি কিনতে হবে। এর ফলে বহু দুস্থ মানুষ উপকৃত হবেন। বর্তমানে ১০০ সিএফটি বালির বাণিজ্যিক বাজারদর পরিবহণ খরচ-সহ ৬৫০০ থেকে ৭৫০০ টাকা।

নদীর ধারে এভাবেই অবৈধ বালি মজুত করতেন ইজারাদাররা। নিজস্ব ছবি

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কোথাও বালি মজুত করতে হলে ইজারাদারদের আলাদাভাবে নির্দিষ্ট জায়গা ও বালির পরিমাণ উল্লেখ করে অনুমতি নিতে হয় ভূমি দপ্তরের কাছ থেকে। অভিযোগ ওঠে, অনুমতির থেকেও বেশি বালি মজুত করার ও অননুমোদিত জায়গায় বালি মজুত করার। গত এক সপ্তাহে বর্ধমানের সদরঘাট এলাকার দামোদরের ধারে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায় ভূমি দফতর। অভিযানে ধরা পড়ে যারা যে পরিমাণ বালি মজুদের অনুমতি নিয়েছিলেন তার থেকে বেশি মজুদ করেছেন ও যে জায়গার জন্য অনুমতি নেওয়া হয়েছিল তার বাইরেও বালি মজুদ করেছেন। এমন জায়গা থেকে ২৮ লক্ষ সিএফটি বালি বেআইনিভাবে মজুদের হদিশ মেলে। এমন চারজন ইজারাদারকে শোকজ করা হয়। পাশাপাশি সব মিলিয়ে মোট ৪ কোটি টাকা জরিমানা করে ভূমি দফতর। সংশ্লিষ্ট ইজারাদাররা অবশ্য সেই জরিমানার অর্থ জমা করেছেন প্রশাসনের কাছে।

জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়ালের নির্দেশে জেলাজুড়েই বেআইনি বালি কারবার রুখতে অভিযান শুরু করে ভূমি দফতর। বেআইনিভাবে বালি তোলার অভিযোগে ১০ জন ইজারাদারকে শোকজও করা হয়েছে। বালির বেআইনি কারবার রুখতে 'জিরো টলারেন্স' নীতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার জেলার সমস্ত বালিঘাটের ইজারাদারদের নিয়ে বৈঠকেও বসে জেলা প্রশাসন। সেখানে এই সব বিষয় স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার মতো পূর্ব বর্ধমানেও গরিব মানুষ যাতে বাড়ি তৈরির জন্য কম দামে কিনতে পারেন তার জন্য বালির দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ট্রাক্টরের এক ট্রলি বা ১০০ সিএফটি বালির জন্য ১২০০ টাকা দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক কালে বালির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছে। ফলে সরকারি আবাস যোজনায় ঘর তৈরিতে অনেকেই সমস্যায় পড়েছিলেন। সেই কারণে তাঁদের জন্য ওই দরে বালি বিক্রির জন্য ইজারাদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে যারা আবাসন বা কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স তৈরির জন্য বালি কিনবেন তাঁদের বাজারদরেই বালি বিক্রি করতে পারবেন ইজারাদাররা। ভাতারের বিজেপি বিধায়ক সৌমেন কার্ফা বলেন, "সরকারিভাবে বেঁধে দেওয়া দামে বালি ঘাট মালিকরা বালি বিক্রি করবেন। কোনও ঘাট মালিক বেশি দাম নিলে আমার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করবেন।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement