সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে সমাজ। কিন্তু ওদেরকে ‘ট্যারা’ চোখে দেখার স্বভাব আজও বন্ধ হয়নি। অথচ প্রকৃতির নিয়মেই ওদের শারীরিক গঠন পুরুষ ও মহিলাদের থেকে আলাদা। কিন্তু নানা ছুৎমার্গের জন্য ‘ওরা’ সমাজের অঙ্গ হয়ে উঠতে পারে না। দূরেই সরিয়ে রাখা হয় ওদের। ‘ওরা’ অর্থাৎ বৃহন্নলা এবং রূপান্তরকামীরা। আর এবার ওদের প্রাপ্য মর্যাদা দিতে এক অভিনব উদ্যোগ নিলেন এ রাজ্যেরই পড়ুয়া শোভন মুখোপাধ্যায়।
[টিটাগড়ে কৃত্রিম রং মেশানো সবজি বিক্রির অভিযোগ, ধৃত ৪]
সম্প্রতি রূপান্তরকামীদের জন্য পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা করেছেন ২১ বছরের শোভন। না, নতুন করে কোনও শৌচালয় তৈরি করেননি। বরং রাজ্যের শহর ও শহরতলিতে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন পাবলিক টয়লেটে মহিলা ও পুরুষদের পাশাপাশি রূপান্তরকামীদের ব্যবহারের জন্যও জায়গা বের করে দিয়েছেন। আর তাঁদের শৌচালয়ের জন্য দিয়েছেন একটি সুন্দর নামও। প্রতিটি টয়লেটের দরজায় যেমন মহিলা বা পুরুষ উল্লেখ করা থাকে, তেমনই রূপান্তরকামীদের ব্যবহৃত টয়লেটের বাইরে ঝুলছে ‘ত্রিধারা’ নামের বোর্ড। কেন এমন নামকরণ? শোভন জানাচ্ছেন, ত্রি অর্থাৎ তিন নম্বর এবং ধারা মানে শক্তি। তৃতীয় শক্তিকে বোঝাতেই এই নাম মাথায় আসে তাঁর। মহিলা টয়লেটের পাশেই তাঁদের জন্য থাকছে দুটি করে টয়লেট। শোভন বলছেন, “আলাদা করে রূপান্তরকামীদের জন্য পাবলিক টয়লেট বানানো খরচসাপেক্ষ। আর এই পদ্ধতিতে সরকারি অর্থও বাঁচবে। সেই অর্থই যদি রূপান্তরকামীদের সার্বিক উন্নতির জন্য ব্যয় করা হয়, তাহলে গোটা দেশেরই মঙ্গল।”
[মারণ ক্যানসারকে দূরে ঠেলে ঠাকুর গড়ছে এই মৃত্যুঞ্জয়ী কিশোর]
২১ বছরের তরুণের এমন ভাবনার কথা রাজ্য ছাপিয়ে দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। শোভনের এই উদ্যোগে খুশি রূপান্তরকামীরাও। ২০১৪ সালে বৃহন্নলা এবং রূপান্তরকামীদের তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি দিলেও আজও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হতে হয় তাঁদের। সম্প্রতিরূপান্তরকামীদের চাকরি দিয়ে নজির গড়েছিল কোচি মেট্রো। তাঁরাও যে সমাজে ব্রাত্য নয়, তাঁদেরও যে একই মর্যাদা প্রাপ্য, শৌচালয়ের ব্যবস্থা করে শোভন যেন সমাজকে সেই বার্তাই দিলেন।
The post রূপান্তরকামীদের জন্য শৌচালয়ের ব্যবস্থা করে নজর কাড়লেন এই বাঙালি appeared first on Sangbad Pratidin.
